শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন © টিডিসি সম্পাদিত
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে ২০২৭ সালের নতুন বই আগামী ২৪ ডিসেম্বর তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সাধারণত ১ জানুয়ারি নতুন বই বিতরণ করা হলেও এবার আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি সুন্দর স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন যে, ছোটবেলায় তাঁরা ক্যালেন্ডারের কাগজ দিয়ে বইয়ের মলাট বানাতেন এবং বই পাওয়ার আনন্দই আলাদা ছিল। আমরাও চাচ্ছি এবার রেজাল্টের দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে। তবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরের শেষের দিকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বা মূল্যায়ন থাকলে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকবেন, তাই আমরা মোটামুটি ২৪ ডিসেম্বর বই বিতরণের চিন্তাভাবনা করছি। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্রিসমাস ও নতুন বছরের ছুটিতে যাবে এবং ছুটি শেষে ক্লাসে ফিরে নতুন বই ও নতুন মলাট নিয়ে পড়াশোনা শুরু করবে। ইতিমধ্যে আমরা নতুন চারটি বই তৈরির কাজটিও হাতে নিয়েছি।
সভায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নিয়ে নানা ইস্যু তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। সভার একটি সূত্র জানায়, সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে আমরা সুযোগ দেব, তবে সবকিছু নিয়মের মধ্যে হতে হবে। কোনোভাবেই ‘ফ্রি স্টাইল’ বা অতিরিক্ত স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না। যেমন—আমি নিজেই তালা থেকে গাড়ি চালিয়ে মিটিংয়ে আসছিলাম, তখন এক ছেলে আমার গাড়িতে ধাক্কা দিল। ড্রাইভার বলল, ‘ভাই, এটা ভিআইপি গাড়ি।’ আমি তখন ড্রাইভারকে বললাম, ‘এটা যদি আগের আওয়ামী লীগ সরকার হতো এবং গাড়িতে পতাকা থাকত, তাহলে তো দূরের কথা, ওই যুবকের খবরই থাকত না!’ কথাটি হলো—অনেক সময় অতিরিক্ত স্বাধীনতাও ভালো ফল আনে না। বদলির সুযোগ থাকবে, কিন্তু নিয়মবহির্ভূত সুযোগ বা স্বেচ্ছাচারিতা বরদাস্ত করা হবে না।
শিক্ষকদের উদ্দ্যেশ্যে মন্ত্রী বলেছেন, আপনারা বলেছেন যে এবার যেন একটি সুশৃঙ্খল সিস্টেমের মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে অনেকেই সফটওয়্যার বানিয়ে আবেদন আহ্বান করেছিলেন এবং তা আমার কাছেও নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু যাচাই করে দেখলাম যে সিস্টেমটি ডিফেক্টিভ (ত্রুটিপূর্ণ) ছিল। একটু চিন্তা করে দেখুন, আমি যদি তখন না বুঝে ওই বাটনে প্রেস করে দিতাম, তাহলে ঢাকার নামী-দামি স্কুলগুলোতে শিক্ষক না গিয়ে চট্টগ্রাম বা অন্য অঞ্চলের শিক্ষকরা হঠাৎ করে ভিড় জমাতেন! তখন পরদিন আমার বিরুদ্ধে কী অবস্থা তৈরি হতো, একবার ভেবে দেখুন!
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়ায় অনেক শিক্ষককে দূরবর্তী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে হচ্ছে। তাই এই শিক্ষকদের বদলির প্রয়োজন রয়েছে। তবে তাঁর এ মতামতের পর সভায় উপস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা জানান, বিদ্যমান বদলি নীতিমালা অনুসারেই ইতোমধ্যে আবেদন নেওয়া হয়েছে। ফলে এবার সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বদলির ফল প্রকাশ করা উচিত।