উচ্চশিক্ষিতদের ঠিকানা প্রাথমিক বিদ্যালয় 

এমফিল-পিএইচডি থেকে ইঞ্জিনিয়ার-ডাক্তার— ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা শিক্ষকতা করছেন প্রাথমিকে

২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ PM , আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৮ AM
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক © ফাইল ফটো

এক যুগ আগেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষকদের আধিক্য দেখা যেত। তবে বর্তমানে সেই দৃশ্য বদলেছে। উচ্চশিক্ষিতদের আগ্রহ বেড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায়। প্রকৌশল, কৃষি, আইন, কম্পিউটার বিজ্ঞান থেকে শুরু করে এমফিল-পিএইচডিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা যুক্ত হয়েছেন প্রাথমিকের শিক্ষকতায়। এমনকি রয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিগ্রিধারী শিক্ষকও। সব মিলিয়ে ৩০ ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলছেন প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। 

প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম বা আইপিইএমআইএস’র ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবরের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আইপিইএমআইএস প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে সংযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। এটি ইউনিসেফ এবং এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর অর্থায়নে পরিচালিত হয়।

আইপিইএমআইএস’র তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যা ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮০ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৯ হাজার ৯৯১ জন স্নাতক (পাস) ডিগ্রিধারী। এইচএসসি পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪২ হাজার ৩০৪ জন এবং স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারী রয়েছেন ২০ হাজার ৯৮৪ জন। এ ছাড়া বিএসএস ডিগ্রিধারী ১৩ হাজার ১১৯ জন, এসএসসি পাস ৮ হাজার ৫৭৯ জন এবং এমবিএ ডিগ্রিধারী ৭ হাজার ৭১০ জন শিক্ষক রয়েছেন।

এমফিল-পিএইচডি কিংবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের শিক্ষকতা পেশায় আসার ফলে শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে। বিষয়টি আমাদের জন্য ইতিবাচক।’—ববি হাজ্জাজ, প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন ডিগ্রিধারীরাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তাদের মধ্যে কামিল ডিগ্রিধারী ৫ হাজার ৭৪০ জন, ফাজিল ডিগ্রিধারী ১ হাজার ৯০১ জন, আলিম পাস ১ হাজার ২৩৯ জন এবং দাখিল পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪১২ জন।

প্রকৌশল, কৃষি, আইন ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের মতো বিশেষায়িত বিষয়ে ডিগ্রিধারী শিক্ষকও রয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী শিক্ষক ১ হাজার ৬১৭ জন। বিএসসি ইন এগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ২৫৮ জন এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ৪৯ জন। আইন বিষয়ে এলএলএম ডিগ্রিধারী ৩৮৬ জন ও এলএলবি ডিগ্রিধারী ৩১৫ জন। এমএড ডিগ্রিধারী ৩৬০ জন, বিএড (অনার্স) ডিগ্রিধারী ২৮৮ জন এবং বিএড ডিগ্রিধারী ২৫৬ জন শিক্ষক রয়েছেন।

এ ছাড়া ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করা শিক্ষক ৪৩৮ জন, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী ১২৬ জন, ম্যাটস ডিগ্রিধারী ৪১ জন এবং বিপিএড ডিগ্রিধারী ২৮ জন। নার্সিং বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক রয়েছেন ২৩ জন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রিধারী ২১ জন ও এমএসসি ডিগ্রিধারী ১৭ জন, বিএজিইডি ডিগ্রিধারী ১০ জন এবং ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার টেকনোলজি ডিগ্রিধারী ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রিধারী ৪২ জন এবং বিডিএস (ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি) ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন।

উচ্চশিক্ষিতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় আসার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মান উন্নত হবে জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমফিল-পিএইচডি কিংবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের শিক্ষকতা পেশায় আসার ফলে শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে। বিষয়টি আমাদের জন্য ইতিবাচক।’

উচ্চশিক্ষিতরা আসার ফলে তাদের জীবনমানের উন্নয়নে কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের জীবনমানের উন্নয়নে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও ভবন
শিক্ষকদের যোগ্যতার বৈচিত্র্যের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার চিত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। তথ্য বলছে, দেশের মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯। এর মধ্যে ৬৪ হাজার ৩৭টি বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। ইন্টারনেট সুবিধা আছে ৩৩ হাজার ৫৫৫টিতে। খেলার মাঠ রয়েছে ৫৫ হাজার ৬৯টি বিদ্যালয়ে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের পরিসংখ্যানে নতুন বা ভালো ভবনের পাশাপাশি মেরামতযোগ্য, পুরোনো, জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ, পরিত্যক্ত ও অ-ব্যবহারযোগ্য ভবনের তথ্যও রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভালো ভবনের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৮২৬। মেরামতযোগ্য ভবন রয়েছে ১৭ হাজার ৯৯২টি এবং ব্যবহারযোগ্য ভবন ১৬ হাজার ৬৭২টি। পুরোনো ভবন রয়েছে ১৩ হাজার ৯৫০, জরার্জীণ ভবন রয়েছে ১১ হাজার ৬০টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ৭ হাজার ৪৭৯টি। এ ছাড়া পরিত্যক্ত ভবন ৪ হাজার ৮১টি, ব্যবহারযোগ্য নয় এমন ভবনের সংখ্যা ১ হাজার ৭৯৯টি এবং নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে ৭৬৫টি। ৪৬টি ভবনের অবস্থা অজানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। বন্যা দুর্গত এলাকায় রয়েছে ২৭ হাজার ৯৬৮টি বিদ্যালয়। জলাবদ্ধ এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৪৪। ঘূর্ণিঝড়কবলিত এলাকায় রয়েছে ১১ হাজার ১৫২টি বিদ্যালয়। নদীভাঙন এলাকায় বিদ্যালয় রয়েছে ৬ হাজার ৯৪৫টি এবং জলোচ্ছ্বাসকবলিত এলাকায় ৬ হাজার ৫৯০টি। পাহাড়ধস এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৪৮৯।

বিদ্যালয়গুলোর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বুক কর্ণার রয়েছে ৬২ হাজার ৫৫৭টিতে, মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার ৬০ হাজার ৯৬৯টিতে, সততা স্টোর ৩৯ হাজার ৫৭০টিতে, র‍্যাম্প ৩৫ হাজার ২৫৬টিতে, মানবতার দেয়াল ২৯ হাজার ৭১৩টিতে এবং শহীদ মিনার রয়েছে ২৯ হাজার ১৩৯টি বিদ্যালয়ে। এ ছাড়া ৩০৯টি বিদ্যালয়ে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ টিউটর রয়েছেন। 

নারী শিক্ষক ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৫ জন
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষকের সংখ্যা পুরুষ শিক্ষকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ৬৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষক রয়েছেন ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৫ জন। শতকরায় যা ৬৬.৮৯ শতাংশ। অন্যদিকে পুরুষ শিক্ষক ১ লাখ ২৩ হাজার ২০৩ জন, যা ৩৩.০৯৮ শতাংশ। 

৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষক সবচেয়ে বেশি
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭২৭ জন। ৪৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষক ১ লাখ ৮ হাজার ৫৭৪ জন। ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ৮৩ হাজার ৭১ জন। আর ৫৬ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষক ২৪ হাজার ৫২০ জন।

দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় হাজারো বিদ্যালয়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। বন্যা দুর্গত এলাকায় রয়েছে ২৭ হাজার ৯৬৮টি বিদ্যালয়। জলাবদ্ধ এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৪৪। ঘূর্ণিঝড়কবলিত এলাকায় রয়েছে ১১ হাজার ১৫২টি বিদ্যালয়। নদীভাঙন এলাকায় বিদ্যালয় রয়েছে ৬ হাজার ৯৪৫টি এবং জলোচ্ছ্বাসকবলিত এলাকায় ৬ হাজার ৫৯০টি। পাহাড়ধস এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৪৮৯।

এ ছাড়া ৯ হাজার ৯১৯টি বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বিদ্যালয়ের এই উপস্থিতি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও দুর্যোগের সময় সেগুলোর ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আনে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থানভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পৌরসভায় অবস্থিত বিদ্যালয় রয়েছে ৪ হাজার ৩০টি এবং সিটি করপোরেশনে ১ হাজার ৪০৪টি। ১ হাজার ৫০০ স্কুল প্রজেক্টের আওতায় রয়েছে ১ হাজার ৫৮৯টি বিদ্যালয়। প্রতিবন্ধি শিশুদের বিদ্যালয় রয়েছে ১ হাজার ২৬৬টি।

বগুড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
মিউচুয়াল ট্রান্সফার দাবি প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকদের, যা বললে…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় এবার গ্রেপ্তার বিএআরসির কর্…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, পিছিয়ে পড়ছে গলাচিপার চরাঞ্চলের …
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
বরিশালে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা পেলেন বাইসাইকেল ও পোশাক
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
ইবিতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে আহত নির্মাণশ্রমিক
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬