আবদুস সালাম ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম © ভিডিও থেকে নেওয়া
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। মেয়র পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক আবদুস সালাম এবং সদ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা ইশরাক হোসেন অন্যতম। এই দুইজনের মধ্য থেকে একজনকে প্রার্থী ঘোষণার সম্ভাবনা প্রবল।
বিএনপির প্রবীণ এবং নবীন—দুই নেতাও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছেন বর্তমান প্রশাসক আবদুস সালাম। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে আবদুস সালাম বলেছিলেন, ‘কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে আগামীতে মেয়র নির্বাচন করব।’
অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের দিন অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘দল যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচনে লড়তে শতভাগ প্রস্তুত রয়েছেন।’
ঢাকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিচিত দুই নেতা হলেন আবদুস সালাম এবং ইশরাক হোসেন। এই দুইজনের যে কোনো একজন আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হবেন— এমনটাই জোর আলোচনা চলছে। তবে এর মধ্যেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসন আবদুস সালাম মেয়র পদে দাঁড়াবেন। গত সোমবার রাজধানীর দয়াগঞ্জে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আবদুস সালামকে দেখিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে মীর শাহে আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘আগামী দিনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আসবে। এই যে আমার শ্রদ্ধেয় আবদুস সালাম সাহেব মেয়র পদপ্রার্থী হবে। এই যে হাজী মকবুল কাউন্সিলর হবে।’
মীর শাহে আলম সরকারের প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় তার এই বক্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে এমন মন্তব্য করায় সমালোচনাও হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন সেটি নির্ধারণ করবে দলের হাইকমান্ড। সেখানে একজনকে দেখিয়ে তিনি প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বক্তব্য জানতে চেয়ে তার হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।