আজ থেকে আর সরকারকে সহযোগিতা করবে না বিরোধী দল: জামায়াত আমির

১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ PM
ডা. শফিকুর রহমান

ডা. শফিকুর রহমান © সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি দুই ভোটের মূল্যায়ন করলে তাঁদের এক সেকেন্ডের জন্যও সংসদের বাইরে গিয়ে আন্দোলন করার প্রয়োজন হতো না। বরং সরকারই তাঁদের আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে। বক্তব্যে আজ থেকে আর সরকারকে সহযোগিতা করবেন না বলেও জানান জামায়াত আমির।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। 'জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি' শীর্ষক এ আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা তো চাইনি তাদের পতন। চেয়েছিলাম তাদের সফলতা। তাদের সফলতা মানে দেশের সফলতা। আমরা এত দিন বলতাম, সরকারকে সহযোগিতা করব। আজ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, বিএনপি বদলে গেলেও আমাদের কথা, বক্তব্য, জুলাই সনদ ও গণভোটের দাবি ইনশাআল্লাহ আদায় করে ছাড়ব।’ জামায়াত আমির বলেন, জনগণ একটি সরকারকে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার জন্য ভোট দিয়েছে, আরেকটি ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য। এই দুই ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দলকে আন্দোলনে নামতে হতো না।

বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, একের পর এক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা হচ্ছে। এবার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ওপরও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, একজন মন্ত্রী পিএসসির সদস্যদের ডেকে নিয়ে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসা নয়। কোনো সদস্যকে এ ধরনের কথা বলার অধিকারও মন্ত্রীর নেই। তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা যে কারণে প্রথমে রাস্তায় নেমেছিল, সেটি ছিল মেধার ভিত্তিতে অধিকার আদায়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে সেই আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করা হচ্ছে।’

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সরকারি দলের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যকেও তা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় অর্থ কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পদ নয়। দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রের তহবিল গঠিত হয়। তাই উন্নয়নের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনায় বৈষম্য করা শুধু অসংগত নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতি অন্যায়।’

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ তাঁদের যে কয়টি আসন দিয়েছে, সেই আসনের ৮৯ জন সংসদ সদস্য সারাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করবেন।

বর্তমান সরকারের সাত মাসের কার্যক্রমের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, আগের স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে চলেছিল, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা হচ্ছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা হচ্ছে না। সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে মহিষের ঘাস খাওয়ার ওপরও কর বসানোর মতো অবস্থা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল কি গালে আঙুল দিয়ে বসে থাকবে? জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্যই আমাদের আন্দোলন।’

জামায়াতের আমির বলেন, তাঁদের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক জোটের স্বার্থে নয়; বরং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়াই এর লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন ১১ দলের জন্য নয়। এই আন্দোলনের প্রত্যেকটি দাবি জনগণের জন্য। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা, বৈষম্যহীন সমাজ কাঠামো গড়ে তোলা, মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণ এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্যই এই আন্দোলন।’

আন্দোলনে সহিংসতা ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন দেখিয়েছে, দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে খালি হাতে রাজপথে দাঁড়িয়েও স্বৈরাচারের পতন ঘটানো সম্ভব। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁরা সামনে এগিয়ে যেতে চান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে ভালোবাসি। জ্বালাও-পোড়াও আমাদের আন্দোলনের কর্মসূচি নয়। আমাদের সন্তানরা ২০২৪ সালে দেখিয়ে দিয়েছে, জ্বালাও-পোড়াও লাগে না। দেশপ্রেম বুকে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলেই পেশিবাদের পতন হয়।’

জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং মোকাবিলায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠার পর তাঁরা সংসদে নোটিশ দিয়ে আলোচনা এবং সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ জন্য তাঁদের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাঁর দাবি, বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণ না করার মধ্য দিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে যে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও বাস্তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে তারা নিজেরা, নিজেদের পরিবার ও সন্তানদের স্বার্থ দেখে।’

সরকারের পতন কবে হবে, তা আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিষয় উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, তবে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ঘরে বসে থাকলে চলবে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি আদায়ে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

নায়েমের নতুন পরিচালক অধ্যাপক ফাহমিদা
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ঢামেকের জরুরি বিভাগ থেকে ভুয়া চিকিৎসক আটক
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসি পাসেই চাকরি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে, আবেদন ২৫ অক্টো…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
মেরিন ড্রাইভে ৫ শতাধিক রিসোর্ট-হোটেলের ফায়ার লাইসেন্সের আবে…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সফরে শেষ মুহূর্তে স্কোয়াডে পরিবর্তন ওয়েস্ট ইন্ডিজ…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ব্যবসা করতে তরুণদের ২০ লাখ টাকা করে দেবে সরকার, আবেদন করবেন…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬