সাংবাদিক হিজাব না পড়ায় সাক্ষাৎকার দেননি ইরানের প্রেসিডেন্ট

সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষায় আমানপোর
সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষায় আমানপোর   © সংগৃহীত

সংবাদিক হিজাব না পড়ায় অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখা সিএনএনের একটি সাক্ষাৎকার থেকে শেষ মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। খবর সিএনএন

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে সাক্ষাৎকার দেয়ার কথা থাকলেও সিএনএনের প্রধান আন্তর্জাতিক উপস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর মাথায় স্কার্ফ পরার দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর শেষ মুহূর্তে সাক্ষাৎকার বাতিল করেন ইব্রাহিম রাইসি।

এক টুইট বার্তায় আমানপোর জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট রাইসির জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট আর সাক্ষাৎকার দিতে আসেননি।

সিএএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪০ মিনিট ধরে টানাপড়েন চলে। প্রেসিডেন্ট রাইসির একজন সহকারী আমানপোরকে মাথায় স্কার্ফ দিতে বলেছিলেন। তবে আমানপোর তা প্রত্যাখ্যান করেন।

একই সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, ইরানের বাইরে কোনো ইরানি কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য তিনি নিজের মাথা ঢাকবেন না। 

সিএনএনের ‘নিউ ডে’ প্রোগ্রামে আমানপোর বলেন, এখানে নিউ ইয়র্কে বা ইরানের বাইরে অন্য কোথাও, আর কোনো ইরানি প্রেসিডেন্ট আমাকে জিজ্ঞাসা (মাথায় স্কার্ফের বিষয়ে) করেননি। আমি ১৯৯৫ সাল থেকে তাদের (ইরানি প্রেসিডেন্ট) সাক্ষাৎকার নিয়েছি- ইরানের ভেতরে বা বাইরে, কখনোই পোশাক পরতে (মাথার স্কার্ফ) বলা হয়নি। আমি খুব বিনয়ের সঙ্গে নিজের, সিএনএন ও সব নারী সাংবাদিকের পক্ষে তা (মাথায় স্কার্ফ) প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ এর দরকার নেই।

আরও পড়ুন: শিক্ষা-গবেষণার পাশাপাশি সংস্কৃতিরও প্রাণকেন্দ্র ঢাবি: উপাচার্য।

ইরানে সাংবাদিকতা করার বিষয়ে স্থানীয় আইন ও রীতিনীতি মেনে প্রতিবেদন করার সময় মাথায় স্কার্ফ দিতে তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আমানপোর। তিনি বলেছেন, এ ছাড়া একজন সাংবাদিক হিসেবে সেখানে (ইরানে) কাজ করার সুযোগ নেই।

তবে এক টুইটবার্তায় আমানপোর স্বীকার করেন, যেহেতু ইরানে (পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে) বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং মানুষ মারা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট রাইসির সঙ্গে তার কথা বলাটা (এ সময়) গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

গত সপ্তাহে তেহরানে হিজাব নিয়ে এক ঘটনায় পুলিশের হাতে ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যু ঘটে। এর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ইরান। একটি বেসরকারি সংস্থা জানিয়েছে, সৃষ্ট বিক্ষোভের ওপর মারাত্মক দমন-পীড়নে কমপক্ষে ৩১ ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাক্সেস সীমিত করা হয়। কিন্তু তাতে চলমান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।


সর্বশেষ সংবাদ