ইরাকে পদক জয়ের মিশনে বাংলাদেশ © সংগৃহীত
আগামী ২৪ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইরাকের সোলেমানিয়াতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপ, স্টেজ-২ (ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং টুর্নামেন্ট)। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারীসহ মোট ১২ জন আরচ্যার নিয়ে ইরাকের উদ্দেশ্য আগামী বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রওনা হচ্ছে বাংলাদেশ দল। আসন্ন এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল রিকার্ভ পুরুষ ও মহিলা একক, কম্পাউন্ড পুরুষ ও মহিলা একক, রিকার্ভ পুরুষ ও মহিলা দলগত এবং রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
দলের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'প্রস্তুতি বেশ ভালো রয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় ১৭ থেকে ১৯টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগবে। খেলোয়াড়দের আরও বেশি উৎসাহিত করতে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি স্বর্ণপদকের জন্য ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, এবার দল থেকে ভালো একটা ফলাফল আসবে।'
বাংলাদেশ আরচ্যারী দলের প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক জানান, এশিয়ান গেমসের ঠিক পরপরই খেলোয়াড়দের ফর্ম ঝালিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং টিম ও মিক্সড টিম ইভেন্টে ইরাকে ভালো করার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই করা হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য পোডিয়াম বা পদক অর্জন।
সাম্প্রতিক এশিয়ান গেমসে আশানুরূপ ফল না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইরাকে নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন দেশসেরা আরচ্যাররা। আব্দুর রহমান আলিফ বলেন, এশিয়ান গেমসের ফল আমাদের মনে আছে, যে শোক ও জেদ থেকে আমরা এবার ভালো কিছু করতে যাচ্ছি। শর্ট টাইমের প্রস্তুতি হলেও ট্রায়ালে তাঁরা বেশ ভালো স্কোর করেছেন এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন আলিফ।
কম্পাউন্ড আরচ্যার হিমু বাছার জানান, এশিয়ান গেমসের পর প্র্যাকটিসের সময় কিছুটা কম মিললেও ইনডিভিজুয়াল, মিক্সড টিম ও টিম এই তিনটি বিভাগেই তাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে। অন্যান্য দেশের সাথে প্রতিযোগিতা করার মতো পারফরম্যান্স তাদের আছে এবং তাঁরা নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
আরেক আরচ্যার বন্যা আক্তার বলেন, এশিয়ান গেমসের পর থেকেই তাদের কন্টিনিউয়াস প্র্যাকটিস চলছে। তারা মূলত স্বর্ণপদকের জন্যই লড়াই করবেন, যাতে ফুল টিম নিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু এবং একটি সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করে ফিরে আসা যায়। এই টুর্নামেন্টে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা তাদের সেরাটা দিয়ে দেশের সম্মান উজ্জ্বল করবেন এমনটাই এখন প্রত্যাশা দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের।