চোখ রাঙাচ্ছে করোনা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি আবারও বন্ধ হবে?

ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা
ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা  © ফাইল ছবি

দেশে গত এক সপ্তাহ ধরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান ভাবে বাড়ছে। শুক্রবার (২৪ জুন) ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। শনাক্ত হয়েছে ওমিক্রণের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টও। যা কিনা ওমিক্রণের চেয়েও দ্রুত গতিতে ছড়ায়। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে কি না?

সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাস্ক পরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চলতে বলা হয়েছে। এই অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি থেকে এর নিচে নেমে এলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ধরা হয়। অন্যদিকে সংক্রমণের হার পাঁচের নিচ থেকে পাঁচ ছাড়ালে ‘পরবর্তী ঢেউ’ আঘাত হেনেছে ধরা হয়। শুক্রবার (২৪ জুন) দেশে করোনা সংক্রশের হার ১২.১৮ শতাংশ। সে হিসেবে দেশে করোনার নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনাভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ সংক্রমণ কেবল বাড়বেই। সংক্রমণ এই মুহূর্তে ঢাকায় বেশি হলেও ঈদুল আযহায় এর কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হবে। কেননা ঈদের ছুটিতে অসংখ্য মানুষ গ্রামে ফিরবে। ফলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়বে। এই অবস্থায় মাস্ক পরাসহ এখন থেকেই কঠোর বিধিনিষেধ প্রয়োগ করতে হবে।

তবে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পক্ষে নন তারা। তাদের মতে, করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দুই বছর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এতে শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস চালিয়ে যেতে পারলে সেটি অব্যাহত রাখা দরকার। তবে সংক্রমণ যদি ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে যায় তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। আমাদের প্রায় সবাই টিকার আওতায় এসেছে। যারা এখনো টিকা নেয়নি দ্রুত তাদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

দেশের স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, আমার মতে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা উচিত হবে না। কেননা এমনিতেই আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে ঈদের আগে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি বাড়ানো যেতে পারে। সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার তিন-চারদিন আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে। ফলে সংক্রমণ কিছুটা কম ছড়াবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ৩০ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত ২১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এই সময় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে  গত ৬ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত আগের সপ্তাহের তুলনায় নতুন করে শনাক্তের হার বেড়েছে ১১৮ দশমিক ১ শতাংশ। ১৩ থেকে ১৯ জুন শনাক্তের হার বাড়ে ৩৮৩ শতাংশ।

গত ২০ জুন ৮৭৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২১ জুন আক্রান্ত হন ৮৭৪ জন, ২২ জুন ১ হাজার ১৩৫ জন করোনা রোগী পাওয়া যায়। ২৩ জুন আক্রান্ত হয়  ১ হাজার ৩১৯ জন। আর শুক্রবার (২৪ জুন) আক্রান্ত  হয় ১ হাজার ৬৮৫ জন। আগামীতে এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। ​

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ সংক্রমণ রোধে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি যে পরামর্শ দেবে সেটি বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত রয়েছে তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আমাদের যে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী করোনার টিকা নেয়নি তাদের দ্রুত টিকা নিতে বলা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়টি ঠিক করবে করোনা মেকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আমরা তাদের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছি। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ পেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হতে পারে।


সর্বশেষ সংবাদ