ধানমন্ডি ৩২-এর ঘটনায় ভারতকে জড়িয়ে যা বললেন মেজর হাফিজ
- টিডিসি রিপোর্ট
- প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০২:১০ PM , আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০২:১০ PM

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বুধবারের (৫ ফেব্রুয়ারি) বিশৃঙ্খলায় ভারতের হস্তক্ষেপ আছে কি না জানার চেষ্টা করব। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য আগামী দিনের গণতন্ত্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এই জন্য কেউ কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত ‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
আরো পড়ুন: প্রাথমিকের সাড়ে ৬ হাজার সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল
শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িসহ সারাদেশে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে চলা আক্রমণ বিষয়ে তিনি বলেন, বুধবার যে ঘটনা ঘটেছে সেটি এখনো চলমান। সেটি এখনো শেষ হয়নি। এটি কারা করেছেন এই তথ্য আমাদের কাছে নেই, এতে সরকারের কি ভূমিকা ছিল সে তথ্যও আমাদের কাছে নেই। সুতরাং আর অল্প কিছু সময় আমরা অপেক্ষা করবো, আজকের দিনের মধ্যেই আশা করি সব কিছু পরিষ্কার হবে। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, কারা এর জন্য দায়ী, তখন সব পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেলে আমরা এই সম্পর্কে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোভাব মিডিয়ার সামনে জনগণের সামনে প্রকাশিত করব। অপূর্ণাঙ্গ তথ্য নিয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
আরো পড়ুন: হাসিনা এক ভিন্ন প্রজন্মের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন: হাসনাত
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ বিএনপি ও ছাত্রদের আন্দোলনকে দমন করার জন্য পেশী শক্তির বারংবার ব্যবহার করেছেন। আমাদের স্মরণ শক্তি অনেক কম, অনেকে ভুলে গেছেন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায়, টঙ্গীর পাশেই কিভাবে ১৫ জন সাধারণ মানুষকে হত্যা করে ভ্যানে শুইয়ে রেখে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কল্পনা করা যায়? তারা আপনার আমার ভাই, সন্তান। রাজপথে ন্যায্য দাবি করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় সাহায্যে জ্বালিয়ে দেওয়া আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা এর অবসান চাই। অবসান হতে পারে একমাত্র গণতন্ত্রের মাধ্যমে।
আরো পড়ুন: ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, নারীকে মারধর
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আজকে নানা ধরনের সংস্কারকে পূর্ব শর্ত দেয়া হচ্ছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়। সংবিধান সংস্কারের কথা বলেছেন, একটি গ্রুপ বলেছেন ৭২ এর সংবিধানকে ছুড়ে ফেলা হবে। অনেক রক্তের বিনিময়ে জিয়াউর রহমান এবং ছাত্র জনতার মিলিত সংগ্রামের ফলে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। ৭২’র সংবিধান একটি চমৎকার সংবিধান। এটি আওয়ামী লীগের সংবিধান নয়, এটি জনতার সংবিধান। আওয়ামী লীগ কাটাছেঁড়া করে এর অঙ্গহানি ঘটিয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও সংবিধানে সংযোজন করা যায়। কিন্তু যায় হউক, নতুন করে সংবিধান লেখা হউক বা সংশোধন করা হউক এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে দেশের সাধারণ জনগণ।
স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।