টানা বর্ষণে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি

পুরো শহরের মানুষ পানি বন্দি হয়ে আছে
পুরো শহরের মানুষ পানি বন্দি হয়ে আছে  © সংগৃহীত

টানা বৃষ্টিতে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এখন পানির নিচে। পানিবন্দি হয়ে আছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। জীবনযাত্রা হয়ে গেছে স্থবির। কষ্টে দিন পার করছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এছাড়াও নগরীতে পানিতে ডুবে শিশু ও কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।  আজ মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার (৭ আগস্ট) শহরের নালা থেকে এক কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে আনোয়ারায় পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়াও কক্সবাজারে পাহাড় ধসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চকরিয়ায় দুই শিশু এবং উখিয়ায় মা-শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সঙ্গে বান্দরবানের যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফেনীর ফুলগাজীতে দুই জায়গায় মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ফেনী, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এসব অঞ্চলের নদীর পানি বিপত্সীমার ওপরে থাকতে পারে। অবনতি হতে পারে বন্যা পরিস্থিতির। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

নগরের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড়দিঘির পার এলাকায় অন্তত ২০টি ভবনের সামনে ও নিচতলায় হাঁটু থেকে কোমর পানি। এসব ভবনের আশপাশে আরো শতাধিক পরিবার থাকে। সেখানেও পানি। এসব বাসাবাড়ির পাশে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি মহাসড়ক।সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন। পানির কারণে বন্ধ সব ধরনের যানবাহন। শত শত মানুষ হেঁটে পানির ওপর দিয়ে ওই অংশ পার হচ্ছে।

এদিকে চকবাজার, দক্ষিণ কাট্টলী, মোহরা, দক্ষিণ আগ্রাবাদ, পূর্ব বাকলিয়া, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, চান্দগাঁও এলাকায় বেশির ভাগ সড়ক, উপসড়ক ও অলিগলিতে প্রচুর পানি। ওই এলাকাগুলোর বেশির ভাগ মানুষ পানিবন্দি।

চট্টগ্রাম সিটির প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, এবারের মতো এত টানা ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি আগে কখনো হয়নি। এই কারণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি।


সর্বশেষ সংবাদ