আজ হাগ ডে © সংগৃহীত
ফেব্রুয়ারি মানেই প্রেম-ভালোবাসার মাস। ৭ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন হয় প্রেমের সপ্তাহ। ভ্যালেন্টাইন ডে-র ষষ্ঠ দিন পালন করা হয় এই হাগ ডে। উষ্ণ আলিঙ্গন ভালোবাসারই এক রূপ। ফলে প্রেমের সপ্তাহে আলিঙ্গন দিবস না-থাকলে কি আর চলে। কথা রাখা না রাখা, ভালোবাসাবাসির মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একে অপরকে জড়িয়ে থাকা। আপনার আলতো ছোঁয়াই বুঝিয়ে দেবে প্রেমের প্রতি আপনি কতটা বিশ্বস্ত। শধু প্রেমই নয় হাগ করলে শরীরও ভালো থাকে। প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরলে বেশ কয়েকটি শারীরিক সমস্যা দূর হয়।
কিন্তু জনসমক্ষে আলিঙ্গনকে আবার অনেক সময় দৃষ্টিকটু হিসেবেও গণ্য করা হয়। আসলে অনেকেই এমন ভাবে বিশেষ মানুষকে আলিঙ্গন করেন, যা ভীষণ রকম চোখে লাগে। তাই এক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যে, একান্তে করা আলিঙ্গন আর জনসমক্ষে করা আলিঙ্গনের ধরন কিন্তু আলাদা হওয়া উচিত।
একদল ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানীর মতে, ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের আলিঙ্গনই আদর্শ। গোল্ডস্মিথ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, ছোট আলিঙ্গনের তুলনায় (মাত্র এক সেকেন্ড স্থায়ী) তুলনামূলক দীর্ঘ আলিঙ্গন তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়। চাপ কমে যায়। মন ভরে ওঠে ভালোবাসায়। বিষয়টি নিয়ে একটি জরিপও চালান তারা। এতে উঠে আসে আশ্চর্যজনক তথ্য।

একে অপরকে বিদায় জানানোর সময় স্টেশনে কিংবা বাস স্টপে আলিঙ্গন করাই যেতে পারে। তবে মাথায় রাখতে হবে, ভিড়ে ঠাসা স্টেশন কিংবা বাস স্টপ কিন্তু পাবলিক প্লেস। নিজের বাড়ি নয়। সেখানে নানা ধরনের মানুষ থাকবে। এই রকম জায়গায় হাত ধরা, কাঁধে মাথা রাখা, আলতো আলিঙ্গন করে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা যেতেই পারে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে একে অপরের প্রতি মনের অনুভূতি প্রকাশের ইচ্ছে জাগতেই পারে। সেখানে যদিও কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি তাঁরা কোনও দলের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে থাকেন, তাহলে নিজেদের মধ্যে হারিয়ে গেলে আবার মুশকিল। রেস্তরাঁ কিংবা কাফেও কিন্তু পাবলিক প্লেস। তাই সেখানেও মাত্রার মধ্যে রাখতে হবে বিষয়টা। তাই সেখানেও হাত ধরা, আলতো করে আলিঙ্গন চলতেই পারে। তবে তা মাত্রা ছাড়ালে অন্য গ্রাহকেরা আপত্তি করতেই পারেন।
আরও পড়ুন: প্রমিস ডে-তে প্রিয় জনকে দিন ‘সত্য প্রতিশ্রুতি’
সম্প্রতি এক গবেষণায়ও বলা হয়, মানুষের মনকে শান্ত করতে জড়িয়ে ধরা অনেক উপকারী। এটি ভালোবাসার এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ। তবে জড়িয়ে ধরা কেন স্বাস্থ্যকর? জেনে নিন এই আয়োজনে
স্ট্রেস কমায়
নানারকম দুশ্চিন্তা লেগেই আছে জীবনে। তার থেকেই বাড়ে স্ট্রেস। প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরলে অনেকটাই কমে স্ট্রেস। যাবতীয় দুশ্চিন্তা কমে যায়।
মনের যোগাযোগ বাড়ে
নানা কারণে ভুল বোঝাবুঝি হলে তাও মিটিয়ে দেয় একটি গভীর হাগ। হাগ ডে-তে প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরুন। দেখবেন, মনের কোথাও একটা জমে থাকা ভার হালকা হয়ে গিয়েছে।
হার্টের জন্য ভালো
বিপরীত লিঙ্গের কেউ জড়িয়ে ধরলো দারুণ এক অনুভূতি পাওয়া যায়। যেটা স্বাস্থের জন্য বেশ উপকারি। বিশেষ করে জড়িয়ে ধরা হার্টের জন্য ভালো। এমনকি ভালোবাসার মানুষটিকে জড়িয়ে ধরলে, হার্টের স্পন্দন ভালো হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।
মনের প্রশান্তি
বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে জড়িয়ে ধরলে মনে প্রশান্তি আসে। এই জড়িয়ে ধরা শরীর এবং মনে শিথিল অনুভূতি তৈরি করে। জড়িয়ে ধরলে মন শান্ত হয়। রাগ কমে আসে ধীরে ধীরে।
অবসাদ কমায়
বারবার কোনও কাজ ঠিকভাবে করতে না পারলে মানসিক অবসাদ জন্মাতে পারে। সেই থেকে মন দুর্বল হয়ে পড়ে। মানসিক অবসাদ কাজেরও ক্ষতি করে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলে জড়িয়ে ধরুন প্রিয় মানুষকে। দেখবেন অনেকটা স্বস্তি পাচ্ছেন। মানসিক অবসাদের মতো সমস্যাও কমিয়ে দেয় হাগ।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি যে প্রিয় মানুষকে আলিঙ্গনের ফলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হ্রাস পায়। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা যাদের রয়েছে, তাদের জন্য এটি খুব জরুরি। প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরলে অনেকটাই আয়ত্তে থাকে রক্তচাপ। এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, মধুর আলিঙ্গনে অক্সিটোসিন নামের এক প্রকার হরমোনের ক্ষরণ বেশি মাত্রায় হয় এবং এতে করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
সাইকোলজিক্যাল সায়েন্সের এক সমীক্ষা বলছে, নিবিড় আলিঙ্গনের সঙ্গে কর্টিসল নামের এক প্রকার হরমোনের ক্ষরণের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কর্টিসল হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে শরীর, এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। কিন্তু নিবিড় আলিঙ্গনের ফলে হরমোনের ক্ষরণ কমে আসে এবং এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
এসব ভালো দিকের কথা যদি বাদও দেওয়া হয় তারপরও কিন্তু প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরলে একটা নিবিড় স্পর্শ আমরা সবাই উপভোগ করি। এর মধ্যে অনেক ভালো লাগা অনুভূতিও কাজ করে। এমনকি দুঃসময়ে ভরসা জোগায়। তাই এসব মাথায় রেখে হলেও প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরার বা হাগ করার প্রয়োজন রয়েছে। আলিঙ্গনে সত্যিই যাদু আছে। প্রিয়জনের আলিঙ্গনে সব ক্লান্তি, মন খারাপ মুহূর্তেই হাওয়া হয়ে যায়। কোনো কথা না বলেই বোঝানো যায় অনুভূতি। আলিঙ্গন তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়।