গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারে প্রতিদিন লেখা হচ্ছে হাজার হাজার গবেষণাপত্র। এসব গবেষণার বেশির ভাগই প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক সুনামধন্য একাডেমিক সাময়িকীতে। গবেষণাপত্র লেখেন বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা। গবেষণার অর্থ জোগায় বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা। অথচ সেই গবেষণাপত্র পড়তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আবার প্রকাশকের কাছেই অর্থ দিতে হয়। আর গবেষণাপত্র সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে অনেক ক্ষেত্রে লেখক বা তাঁর অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে দিতে হয় প্রকাশনা ফি। এই ব্যবস্থাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক ব্যবসা।
স্প্রিঞ্জার নেচার, এলসেভিয়ার, উইলি ও টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিসের মতো বিশ্ববিখ্যাত প্রকাশকেরা প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে। তাদের ব্যবসা এখন আর শুধু সাময়িকী প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ, ডিজিটাল সেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু ব্যবহারের অনুমতি বিক্রি করে তারা বিপুল অর্থ আয় করছে। ফলে গবেষণাপত্র প্রকাশের বাজারে একদিকে যেমন তৈরি হয়েছে নতুন আয়ের সুযোগ, অন্যদিকে গবেষণার খরচ, প্রকাশকদের মুনাফা এবং সাধারণ মানুষের গবেষণায় প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে।
চাঁদা থেকে প্রকাশনা ফি, কীভাবে আয় করে প্রকাশকেরা
একাডেমিক প্রকাশকদের আয়ের প্রধান উৎস কয়েকটি। প্রথমটি হলো গ্রাহক চাঁদা। বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রন্থাগার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট প্রকাশকের সাময়িকী এবং গবেষণার তথ্যভান্ডার ব্যবহারের জন্য বার্ষিক চুক্তি করে। ফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা সেই চুক্তির আওতায় গবেষণাপত্র পড়তে পারেন। বড় প্রকাশকদের জন্য এ ধরনের চুক্তি নিয়মিত আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
দ্বিতীয় উৎস গবেষণাপত্র প্রকাশের ফি। উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার ব্যবস্থায় গবেষণাপত্র পড়তে পাঠককে অর্থ দিতে হয় না। তবে অনেক সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য লেখক, তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা গবেষণার অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে ফি দিতে হয়। এই ফি পরিচিত নিবন্ধ প্রক্রিয়াকরণ ফি নামে। অবশ্য সব উন্মুক্ত সাময়িকীতে ফি লাগে না; কিছু প্রকাশনা অনুদান বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় পরিচালিত হয়।
তৃতীয় উৎস বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশেষ চুক্তি। এসব চুক্তিতে একটি প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে গবেষণাপত্র পড়া এবং নিজেদের গবেষণা উন্মুক্তভাবে প্রকাশের সুযোগ পেতে পারে। এর বাইরে রয়েছে একাডেমিক বই বিক্রি, গবেষণার উদ্ধৃতি ও প্রভাব বিশ্লেষণ, ডিজিটাল তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার এবং গবেষণার তথ্য বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি বিক্রি।
এই আয়ের উৎসগুলো সব প্রকাশকের ক্ষেত্রে সমান নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান শক্তি সাময়িকী ও গ্রাহক চাঁদা, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ, শিক্ষা কিংবা পরীক্ষা গ্রহণের সেবাও বড় ভূমিকা রাখে।
স্প্রিঞ্জার নেচার: গবেষণা বিভাগ থেকেই ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি আয়
জার্মানিভিত্তিক প্রকাশক স্প্রিঞ্জার নেচার ২০২৫ সালে ১৯২ কোটি ৬৪ লাখ ইউরো রাজস্ব আয় করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। আগের বছর প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ছিল ১৮৪ কোটি ৭১ লাখ ইউরো। ২০২৫ সালে সমন্বিত পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৫৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউরো, যা প্রায় ৭ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক বিভাগ হলো গবেষণাপ্রকাশনা। ২০২৫ সালে এ বিভাগ থেকে রাজস্ব এসেছে ১৫১ কোটি ৭২ লাখ ইউরো বা আনুমানিক ২১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। এ বিভাগের সমন্বিত পরিচালন মুনাফা ছিল ৪৮ কোটি ৬৪ লাখ ইউরো। আগের বছরের তুলনায় বিভাগটির অন্তর্নিহিত রাজস্ব বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। একই বছর পুরো প্রকাশনা পোর্টফোলিওতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। শুধু পূর্ণ উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারের সাময়িকীগুলোতে প্রকাশনা বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ।
স্প্রিঞ্জার নেচারের আয়ের বড় অংশ আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাহক চাঁদা, গবেষণাপত্র প্রকাশের ফি, বই বিক্রি এবং ডিজিটাল গবেষণাসেবা থেকে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ১৯টি নতুন বিশেষ চুক্তি করেছে। বছর শেষে এ ধরনের চুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫টিতে, যার আওতায় চার হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব চুক্তি প্রকাশককে একদিকে প্রাতিষ্ঠানিক রাজস্ব দেয়, অন্যদিকে গবেষকদের উন্মুক্তভাবে গবেষণাপত্র প্রকাশের সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রকাশকটি গবেষণার তথ্য বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েও আয় করছে। করপোরেট গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগকে লক্ষ্য করে তথ্য ব্যবহারের অনুমতিসংক্রান্ত সেবা সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এলসেভিয়ার: সাময়িকীর পাশাপাশি তথ্য বিশ্লেষণের বড় ব্যবসা
বিশ্বের অন্যতম বড় একাডেমিক প্রকাশক এলসেভিয়ারের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করে এর মূল প্রতিষ্ঠান রিলএক্স। ২০২৫ সালে রিলএক্সের মোট রাজস্ব ছিল ৯৫৯ কোটি পাউন্ড। এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগ থেকে এসেছে ২৭১ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড, যা আনুমানিক ৪৪ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। এ বিভাগের সমন্বিত পরিচালন মুনাফা ছিল ১০৩ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। অর্থাৎ বিভাগের রাজস্বের প্রায় ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ সমন্বিত পরিচালন মুনাফা হিসেবে এসেছে।
এলসেভিয়ারের ব্যবসার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গবেষণাপত্রে প্রবেশাধিকার এবং গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ। সায়েন্সডাইরেক্টের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকেরা সাময়িকী ও বইয়ের ডিজিটাল সংস্করণ ব্যবহার করেন। অন্যদিকে স্কোপাস গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি, গবেষকের প্রকাশনা এবং গবেষণার প্রভাব সম্পর্কে তথ্য দেয়। এসব সেবা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট গ্রাহকেরা চুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করে।
ফলে এলসেভিয়ারের ব্যবসা শুধু একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে ফি নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদি গ্রাহক চাঁদা, তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার এবং গবেষণার মান ও প্রভাব বিশ্লেষণের সেবা থেকেও আয় আসে।
উইলি: গ্রাহক চাঁদা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন আয়ের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রকাশক উইলির ২০২৬ অর্থবছরে মোট রাজস্ব ছিল ১৬৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মধ্যে গবেষণা বিভাগ থেকে এসেছে ১১৩ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৩ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। শিক্ষা বিভাগ থেকে আয় হয়েছে ৫৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গবেষণা বিভাগের সুদ, কর, অবচয় ও অমর্টাইজেশনের আগের আয় ছিল ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা রাজস্বের প্রায় ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ। এই আয় নিট মুনাফা নয়।
উইলির গবেষণা বিভাগের আয় আসে সাময়িকী ও বই প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাহক চাঁদা, উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারে গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি থেকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার জন্য গবেষণার তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া।
উইলি জানিয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে পুরো প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট রাজস্ব ছিল ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। গবেষণা বিভাগের রাজস্ব বৃদ্ধিতে গ্রাহক চাঁদা, বিশেষ চুক্তি, উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারে প্রকাশনা এবং তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ভূমিকা রেখেছে।
টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস: সাময়িকী, বই ও তথ্য ব্যবহারের অনুমতি
একাডেমিক সাময়িকী ও গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশের জন্য পরিচিত টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিসের ২০২৫ সালের রাজস্ব ছিল ৬১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড, যা আনুমানিক ১০ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মূল কোম্পানি ইনফরমার প্রকাশিত হিসাবে আগের বছর রাজস্ব ছিল ৫৯ কোটি ৩৬ লাখ পাউন্ড। ২০২৫ সালে সমন্বিত পরিচালন মুনাফা হয়েছে ২১ কোটি ৭৯ লাখ পাউন্ড, যা রাজস্বের প্রায় ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ।
টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিসের আয়ের প্রধান উৎস একাডেমিক সাময়িকী, গবেষণাগ্রন্থ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি এবং ডিজিটাল বিষয়বস্তু ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া। রাউটলেজের মতো প্রকাশনার মাধ্যমে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের বইয়ের বাজারেও প্রতিষ্ঠানটির শক্ত অবস্থান রয়েছে।
ইনফরমা জানিয়েছে, এককালীন বিশেষ তথ্য-প্রবেশাধিকার চুক্তি বাদ দিলে টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিসের ২০২৫ সালের অন্তর্নিহিত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে এ ধরনের বিশেষ চুক্তি থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি আয় হয়েছিল।
অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ: গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষা ও পরীক্ষা
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের ব্যবসায়িক কাঠামো অন্য অনেক প্রকাশকের চেয়ে আলাদা। কারণ তাদের আয়ের মধ্যে একাডেমিক সাময়িকী ও বইয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, ভাষা শেখানো, পরীক্ষা ও মূল্যায়নসেবা রয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মোট ব্যবসায়িক আয় ৮২ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড এবং ব্যবসায়িক উদ্বৃত্ত ৬ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে একাডেমিক বই ও সাময়িকী, ডিজিটাল গবেষণামঞ্চ, অভিধান, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা এবং ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী। ফলে পুরো রাজস্বকে গবেষণাপত্র প্রকাশনার আয় বলা যাবে না।
কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের রাজস্ব ছিল ১০২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। গবেষণাপত্র ও একাডেমিক বই প্রকাশের পাশাপাশি কেমব্রিজ ইংলিশ এবং পরীক্ষা ও মূল্যায়নসেবা প্রতিষ্ঠানটির আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
দুই প্রতিষ্ঠানই বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট। তাই তাদের আর্থিক কাঠামো বিনিয়োগকারীমালিকানাধীন প্রকাশকদের থেকে আলাদা। উদ্বৃত্ত অর্থ বৃহত্তর শিক্ষাগত ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।
এমডিপিআই ও অন্যান্য প্রকাশক: প্রকাশনা ফিই বড় আয়ের উৎস
উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারকেন্দ্রিক প্রকাশকদের ব্যবসা বুঝতে এমডিপিআই, ফ্রন্টিয়ার্স ও পিএলওএসের মতো প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকানো জরুরি। এসব প্রকাশকের ক্ষেত্রে গবেষণাপত্র প্রকাশের ফি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। ২০২৩ সালে শুধু নিবন্ধ প্রক্রিয়াকরণ ফি থেকে এমডিপিআইয়ের আয় ছিল ৬৮১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার।
গবেষণার খরচ ও পাঠকের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ক
এই শিল্পের ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে বিতর্কের মূল কারণ হলো গবেষণার অর্থায়ন ও গবেষণার ফল ব্যবহারের খরচ। অনেক ক্ষেত্রে গবেষণা সরকারি অনুদান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে পরিচালিত হয়। গবেষকেরা পাণ্ডুলিপি লেখেন এবং বিশেষজ্ঞরা বিনা পারিশ্রমিকে সহকর্মী পর্যালোচনা করেন। এরপর গবেষণাপত্র পড়তে বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্রাহক চাঁদা দিতে হতে পারে। আবার উন্মুক্তভাবে প্রকাশের জন্যও ফি লাগতে পারে।
অন্যদিকে প্রকাশকদের মত হলো, সম্পাদনা, মান যাচাই, প্রকাশনা মঞ্চ, ডিজিটাল সংরক্ষণ এবং গবেষণার নির্ভরযোগ্যতা রক্ষায় বিনিয়োগের প্রয়োজন। ফলে বিতর্কটি শুধু প্রকাশকের মুনাফা নিয়ে নয়; বরং প্রকাশনা ব্যয় কতটা স্বচ্ছ, বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি কতটা সাশ্রয়ী এবং অর্থের অভাবে গবেষকেরা প্রকাশনা থেকে বাদ পড়ছেন কি না এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর মধ্যে বাংলাদেশে ষষ্ঠ স্থানে থাকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার সাময়িকী প্রকাশক আছে। সবাই বাজারে টিকে থাকতে পারে না। স্প্রিঞ্জার, উইলি, এলসেভিয়ার, টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস বাজারে টিকে আছে। কারণ, তারা তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, মানের সঙ্গে কখনো আপস করেনি। ফলে তারা কোটি কোটি টাকা আয়ও করছে। তবে তারা যদি তাদের ব্যবসায়িক মডেলে পরিবর্তন আনে, তাহলে গবেষক, পাঠক সবার জন্যই সুফল বয়ে আনবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, এমনকি পাকিস্তানও একাডেমিক এই বাজারকে ধরতে পেরেছে। কিন্তু আমরা পারছি না। আমাদের দেশের সাময়িকীগুলোর মান যাচ্ছেতাই। ধারাবাহিকতা নেই, মান নেই, প্রভাবক নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পদোন্নতিভিত্তিক সাময়িকী চালু করে রেখেছে। এক বন্ধুর গবেষণাপত্র অন্য বন্ধু পর্যালোচনা করে দিচ্ছে। ফলে মান আর বজায় থাকছে না।’