জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে ওঠেনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী, যাদের অনেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকলেও কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের অভাবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিভিন্ন পেশায় যুক্ত সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পেশাগত যোগাযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারলেও তাদের এক ছাতার নিচে আনার কার্যকর উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। একটি কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন না থাকায় সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের সুযোগও সীমিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন থাকলে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অর্জিত জ্ঞান বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারতেন। ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, চাকরির প্রস্তুতি, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে তাদের পরামর্শ শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হতে পারত। পাশাপাশি সাবেকদের পেশাগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ইন্টার্নশিপ, কর্মসংস্থান ও নতুন কর্মক্ষেত্রের সুযোগ তৈরির পথও সহজ হতো।
শুধু সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে একটি কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। তবে এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত করা এবং কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। দীর্ঘদিনেও এমন একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সক্ষমতাকে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ কতটা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা বিভাগেরপ্রধান সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জনি বলেন, বিভিন্ন ব্যাচ ও বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। অ্যালামনাই প্রতিষ্ঠিত হলে সাবেকদের মধ্যে যোগাযোগ ও ঐক্য বাড়বে এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার, গবেষণা, ইন্টার্নশিপ ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা পাবে। পাশাপাশি মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, বৃত্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখা সম্ভব হবে। দুঃসময়ে সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তাও সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করা যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও উদ্যোগ থাকলেও এখনো একটি কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে না ওঠা সত্যিই হতাশাজনক। সমন্বয়ের ঘাটতি, উদ্যোগের ধারাবাহিকতার অভাব ও সাংগঠনিক জটিলতার কারণে এ উদ্যোগ বারবার পিছিয়ে গেছে বলে মনে করছি। এখন সময় এসেছে সকল ব্যাচ ও বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করে দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তোলার।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আরএসপিএল হেলথে কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো: হায়দার আলী খান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন না থাকায় সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার একটি বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। একটি কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম থাকলে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন, মেন্টরশিপ ও বিভিন্ন সহযোগিতায় ভূমিকা রাখতে পারতেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) আইন বিভাগের প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান লিমন বলেন, ‘আমাদের সমসাময়িক সময়ে প্রতিষ্ঠিত প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। আমরাও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছি। কিন্তু একসঙ্গে যুক্ত থাকার কোনো প্ল্যাটফর্ম না থাকায় বিভিন্ন প্রোগ্রাম করা কিংবা কারও মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হলে পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ও গঠনমূলক উন্নয়নে অ্যালামনাইদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বিভাগ তাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইতিমধ্যে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেছে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করতে পারলে ভালো হয়।’