মধ্যরাতে নারী চিকিৎসককের ওপর চড়াও-গালাগাল, অভিযোগ শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে

১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ PM
নারী চিকিৎসককে হেনস্তা

নারী চিকিৎসককে হেনস্তা © সংগৃহীত

বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে মধ্যরাতে দায়িত্ব পালনরত এক নারী চিকিৎসককে গালাগাল ও মারতে তেড়ে আসার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক দল নেতা ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। ক্যানুলা পরানো নিয়ে বিরোধের জেরে ওই ব্যক্তিরা চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে তাকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক।

ভুক্তভোগী চিকিৎসক সাকিয়া হক হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার। অসুস্থ হওয়া শ্রমিক দল নেতাকে ক্যানুলা পরানোকে কেন্দ্র করে তার লোকজন ওই নারী চিকিৎসকে তার কক্ষে ঢুকে গালাগাল ও মারধর করতে তেড়ে আসেন বলে তার অভিযোগ।

ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে গতকাল রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন সাকিয়া হক। সেখানে তিনি লেখেন,  ‘বাগেরহাটে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শানু (নাকি হারুন জানি না) এসে শুধু গায়ে হাত দেওয়া বাকি রাখছে নাইট ডিউটিতে। আমি একা রুমে। ৮-১০ জন সাঙ্গোপাঙ্গ এসে মারমুখো। কারণ একটাই—আমাদের ওয়ার্ড বয় ক্যানুলা মিস করছে।’

চিকিৎসক সাকিয়া হকের ভাষ্য অনুযায়ী, বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে রাত ১২টার দিকে এক রোগী হাসপাতালে আসেন। প্রথমে তার ইসিজি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রক্তচাপ ও অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিকভাবে হৃদ্‌যন্ত্রের কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। পরে গ্যাসের সমস্যার জন্য ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার জন্য রোগীর শরীরে ক্যানুলা পরাতে গিয়ে প্রথমবার ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্ট ইন্টার্ন চিকিৎসক। দ্বিতীয়বার একজন ওয়ার্ড বয় চেষ্টা করেও সফল হননি। এ সময় রোগীর স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ক্যানুলা পরানোর বিষয়ে অভিজ্ঞ শিশুবিভাগের নার্সদের ডাকতে যান। এর মধ্যেই রোগীর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে গালাগাল শুরু করেন এবং বারবার মারতে তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ করেন সাকিয়া।

ডা. সাকিয়া হক বলেন, রোগীর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা বেশ আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তারা তার কক্ষে ঢুকে গালাগাল করেন এবং বারবার মারতে উদ্যত হন। যদিও তারা গায়ে হাত দিতে পারেননি, তবে পরিস্থিতি এমন ছিল যে তারা শারীরিকভাবে আক্রমণ করতেন কি না, তা বলা কঠিন। চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে হাসপাতালের কর্মী ও অন্য রোগীর স্বজনেরা এগিয়ে আসেন। পরে হাসপাতালের কর্মীরা তাদের কক্ষ থেকে সরিয়ে দেন। রাত সোয়া ১টার দিকে ওই চিকিৎসক ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন, তার অভিযোগ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়। একই সঙ্গে কর্মপরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে হতাশার কথাও তুলে ধরেন।

সাকিয়া হক বলেন, রোগীকে ইনজেকশন দেওয়ার পর ২০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ক্যানুলা পরানোর সময় একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। সেখানে অনেক মানুষের ভিড়ও বাড়তি চাপ তৈরি করে। রোগীর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা তাকে ক্যানুলা পরিয়ে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকায় একজন চিকিৎসকের পক্ষে সব কাজ একা করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া দায়িত্বে থাকা নার্স ও ওয়ার্ড বয়রাও ক্যানুলা পরানোর বিষয়ে অভিজ্ঞ। এসব বাস্তবতা থাকলেও চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে গালাগাল করা কিংবা মারতে তেড়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।

ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন উল্লেখ করে ডা. সাকিয়া বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং অন্য চিকিৎসকদেরও এর মুখোমুখি হতে হয়। এমন পরিবেশে চিকিৎসাসেবা দেওয়া কঠিন। রাতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত লোকজন না থাকায় নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়ে। হাসপাতালের বাইরে চলাফেরার সময়ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয় তাকে। এসব বিষয় নিয়ে আর মানসিক চাপ নিতে চান না বলেও জানান তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বাগেরহাট পৌর শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম ভূঁইয়া ওরফে সেলিম ভূঁইয়া। তার দাবি, ঘটনাটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, বাস্তবতা তেমন নয়। রোগীর শরীরে ছয় জায়গায় ক্যানুলা পরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। একপর্যায়ে রোগী কষ্টের কথা জানিয়ে চিকিৎসককে অনুরোধ করেন, যেন তিনি ক্যানুলা পরিয়ে দেন। এ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর লোকজনের কিছুটা বাক্‌বিতণ্ডা হয় বলে দাবি করেন তিনি। সেলিম ভূঁইয়া আরও জানান, বাগেরহাটে বর্তমানে শ্রমিক দলের কোনো কমিটি নেই। তিনি দলটির প্রস্তাবিত জেলা কমিটির সভাপতি। তবে ওই কমিটি এখনো অনুমোদন পায়নি; অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। এমন পরিবেশ কোনো হাসপাতালেই মেনে নেওয়া যায় না। হাসপাতালে পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন। অথচ অনুমোদিত পদের তুলনায় কর্মী রয়েছেন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সীমিত জনবল নিয়েও সবাই রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ দুঃখজনক। তবে ঘটনার পর দুপুর পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানায়নি।

এদিকে হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী, ওই রোগীর নাম শানু। বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, এ ঘটনায় তারা এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থীর ঘটনায় তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন, বিশেষ …
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্যকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম, উপাচার্…
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
মধ্যরাতে নারী চিকিৎসককের ওপর চড়াও-গালাগাল, অভিযোগ শ্রমিকদল …
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
ফেসবুকের পোস্ট নিয়ে শিক্ষার্থীকে হুমকি ছাত্রদল নেতার, নিরাপ…
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা কর কমিশনারের কার্যালয় ১৩-এ বিভিন্ন গ্রেডে ৪৭ পদে চাকরি…
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ নেয়ার ভিডিও ভাইরাল
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬