প্রধানমন্ত্রী
নয়া পল্টনের সার্বভৌমত্ব র্যালি ও সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। © টিডিসি ফটো
দেশের ভেতরে ও বাইরে আবারও ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো অতীতেও যেভাবে ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হয়েছে, এবারও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেভাবেই জবাব দেওয়া হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র্যালির আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো এখনো একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে এবং আবারও ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের মতো দেশের মানুষ আবারও সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। সেই গণতন্ত্র রক্ষা করতে হবে। ৭ নভেম্বরকে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন। এ দিন দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রত্যাশার দিন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান নিজেই স্লোগান ধরেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’
এর আগে বিকাল তিনটার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
বিএনপির পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দুপুর ১২টা থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা। তাঁদের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত সড়কে ব্যাপক জনসমাগম হয়। ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও বাস ও খোলা ট্রাকে করে নেতা-কর্মীরা কর্মসূচিতে যোগ দেন।
এ সময় নেতা-কর্মীদের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। অনেকে বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরে র্যালিতে অংশ নেন। সমাবেশে বক্তব্য শেষে তারেক রহমান হেঁটে র্যালিতে যোগ দেন।
এ সময় তিনি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছে র্যালির সমাপনী বক্তব্য দেন। মন্ত্রিসভার সদস্য ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও তাঁর সঙ্গে র্যালিতে অংশ নেন।