প্রশংসায় নেটিজেনরা
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হ্যান্ডশেক করতে হাত বাড়ালে মুখে সৌজন্যতা প্রকাশ করেন ডা. জুবাইদা রহমান © সৌজন্যে প্রাপ্ত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে ঘিরে ছোট্ট একটি মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিওতে দেখা গেছে, জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা হ্যান্ডশেক করতে হাত বাড়িয়েছেন; তবে হ্যান্ডশেক না করে মুখে সৌজন্যতা প্রকাশ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসামূলক নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটটি আজ জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিট) নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। এ সময় তাঁদের মধ্যে সৌজন্য বিনিময়ের একপর্যায়ে ওই মুহূর্তটি ঘটে বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নেটিজেন ডা. জুবাইদা রহমানের প্রশংসা করছেন। ফয়সাল হোসেন নামে একজন ডা. জোবাইদা রহমানকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তুলনা করে লিখেছেন, ‘তাকে বেগম জিয়ার মত ভদ্র বলেই মনে হয়।’
আলমাস নামে একজন লিখেছেন, জোবায়দা রহমানের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা জাপানের এক পদস্থ কর্মকর্তা। জবাবে জোবায়দা রহমান করমর্দন না করে মুখে ধন্যবাদ জানিয়ে সৌজন্য প্রকাশ করেন। জোবায়দা রহমান একজন উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসক এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। চাইলে আধুনিকতার নামে করমর্দন করতে পারতেন, কিন্তু নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের জায়গায় অটল থেকে সহজভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন। আধুনিকতা মানেই নিজের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়া নয়। বরং নিজের বিশ্বাস বজায় রেখেও যে মার্জিত, রুচিশীল ও আন্তর্জাতিক মানের সৌজন্য প্রকাশ করা যায়, এই ঘটনাকে আমি সেভাবেই দেখি।
জিয়া পরিবারের মধ্যে আভিজাত্যের পাশাপাশি বাঙালির ঐতিহ্য, সংযম ও মধ্যবিত্তীয় মূল্যবোধের যে প্রতিফলন খুঁজে পাই, তা আমাকে মুগ্ধ করে। নিজের শিকড়কে ধারণ করেই বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো—এটাই আমার কাছে বাংলাদেশি পরিচয়ের সৌন্দর্য।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, তারেক রহমান জাপানে পৌঁছানোর দিনই জাপানি নেত্রী তাকাইচির কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এরপর যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে এবং জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন থাকবে। চার দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থা ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করবেন এবং ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করবে, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ)-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা জোরদার করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া, উভয় পক্ষ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবে। প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য রাখবেন এবং জাপানের ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।