বিরোধী দলের ওপর রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়ে গোয়েন্দাগিরির বার্তা বিপজ্জনক: হাসনাত আবদুল্লাহ

২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮ PM
হাসনাত আবদুল্লাহ

হাসনাত আবদুল্লাহ © সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের ওপর নজরদারির বার্তা দেওয়া বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, বরং দেশের জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। একই পোস্টে তিনি রাষ্ট্রীয় সংস্থার ব্যবহার, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড প্রকল্পে সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, 'একজন প্রধানমন্ত্রী কি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করে বিরোধীদলের উপর গোয়েন্দাগিরি করার ঘোষণা প্রকাশ্যে দিতে পারেন? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি কোন দলের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা? নাকি দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করার কথা?'

বিরোধী দলের ওপর গোয়েন্দা নজরদারির অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, 'বিরোধীদলের উপর গোয়েন্দা সংস্থা লেলিয়ে দেওয়ার এই সংস্কৃতি আমাদের তো হাসিনার আমলের কথাই মনে করিয়ে দেয়। অথচ রঙ বেরঙের কার্ড ছাপানো কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। সরকার কি এসব নিয়ে আজ পর্যন্ত একটা তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে? উত্তর হলো, না।'

তিনি আরও লেখেন, 'রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদলের উপরে গোয়েন্দাগিরি করার যে বার্তা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন সেটা অত্যন্ত বিপদজনক। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কাজ থেকে সরিয়ে শুধুমাত্র বিরোধী রাজনৈতিক দলের পিছনে লেলিয়ে দেওয়া এবং বিরোধী দলকে টার্গেট করে নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার করা প্রমাণিতভাবে একটি ফ্যাসিবাদী চরিত্র। প্রধানমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অপব্যবহারের গভীরতর বার্তা দেয়, যা নিন্দনীয়।'

ফেসবুক পোস্টে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বড় প্রকল্পে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) ব্যবহারের প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) মতো প্রতিষ্ঠানকে সামনে রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কার্ড তৈরির ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, 'বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ডেবিট কার্ড কিংবা ক্রেডিট কার্ড সরবরাহকারী একজন বিএনপি-এমপি'র প্রতিষ্ঠান যেখানে ১২৫- ১৩০ টাকায় প্লাস্টিক কার্ড সরবরাহ করে, সেখানে ফার্মার কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডে সর্বমোট দাম পড়ছে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৬৫ টাকা খরচের যৌক্তিকতা কী? উপরন্ত ডাটাবেজ করার নাম করে ২০১০ কোটি টাকা হাতানোর চক্রান্ত শুরু হয়েছে।'

দরিদ্র মানুষের তথ্যভান্ডার তৈরির জন্য নতুন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিদ্যমান তথ্যভান্ডার হালনাগাদ ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে দরিদ্র এবং অতিদরিদ্র মানুষের তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা সম্ভব। এ জন্য নতুন করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা সরকারের ব্যাখ্যা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড প্রকল্পে সম্ভাব্য অনিয়মের দায় এড়াতে সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করা হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'আই হ্যাভ এ প্লানের ভিতরে এজেন্সি গুলোর সাইনবোর্ড'কে কাজে লাগিয়ে ডিপিএম লুটপাটের মহাপরিকল্পনাকে আমরা নিন্দা জানাই। এবং একই সাথে বাংলাদেশের এজেন্সিগুলোকে বিএনপি নেতাদের লুটপাটের ভাগীদার না হতে আগাম সতর্কতা জানাই।'

রাষ্ট্রীয় বাহিনীর রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে অতীতের ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করার কারণে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পোস্টের শেষাংশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, 'মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরকারি দলের সম্পত্তি নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কোন দলের দলদাস হওয়ার জন্য তৈরি করা হয় নাই। বরং রাষ্ট্রীয় বাহিনী বাংলাদেশের জনগণের সেবক। সরকার এবং বিরোধীদলসহ ১৮ কোটি মানুষের হয়ে কাজ করার জন্যই সকল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে দেশের বদলে দলের হীন স্বার্থ রক্ষার কাজে লাগানো মানে শুধু সাধারণ একটা নিয়ম ভঙ্গ করা না। বরং এটি জনগণের অর্পিত দায়িত্বের সাথে সরাসরি প্রতারণা করা।'

হায় সেলুকাস! তরুণদের আরেকবার জাগতে হবে: জামায়াত আমির
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুই পক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
বিরোধী দলের ওপর রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়ে গোয়েন্দাগিরির বার্ত…
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
দেশের ১৩ জেলায় নতুন উপপরিচালক পদায়ন
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
স্ত্রীর কাছে টাকা দাবির পর হোটেলকক্ষে মিলল শিক্ষকের মরদেহ
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা-১১ আসনের নাগরিক ভোগান্তি নিয়ে স্ট্যাটাস ভাইরাল, মন্তব্…
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬