পে-স্কেল © ফাইল ফটো
নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি মাস থেকেই বর্ধিত বেতন পাবেন। তবে ভাতা পেতে তাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। এই অপেক্ষা শেষ হতে পারে ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলে চলতি মাস থেকেই শতকরা হারে বেসিক বৃদ্ধি হবে সরকারি চাকরিজীবীদের। ইতোমধ্যে পে-ফিক্সেশনের কার্যক্রমও শেষ করেছেন অনেক চাকরিজীবী। পে-ফিক্সেশনের হিসেব অনুযায়ী চলতি মাস থেকেই বেতন বৃদ্ধি পাবে। আগামী মাসের বেতনের সঙ্গে এই বর্ধিত এই বেতন পাবেন তারা।
সূত্রের তথ্য বলছে, বেসিক বৃদ্ধি পেলেও সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা এখনই বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তিন ধাপে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির পর ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। এই ভাতা ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হতে পারে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ‘নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন অনলাইনে নির্ধারণ করার কাজ চলছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এটি শেষ হবে। ফলে চলতি মাস থেকেই বর্ধিত বেতন পাবেন চাকরিজীবীরা।’
নতুন পে স্কেলের বকেয়া বেতন ক্যালকুলেটরে হিসেব করবেন যেভাবে
নতুন পে স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের অনেকে জানতে চাইছেন, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে তাঁরা কত টাকা বকেয়া পাবেন। এই হিসাব সহজ করতে একটি এইচটিএমএল ক্যালকুলেটর ফরম তৈরি করা হয়েছে। এতে গ্রেড ও দুটি মূল বেতনের অঙ্ক দিলেই নতুন মূল বেতন, বিশেষ সুবিধা ও বাড়ি ভাড়ার সমন্বয় এবং তিন মাসের বকেয়া বিবরণী পাওয়া যায়। ফরমটি যেভাবে পূরণ করতে হবে, তা নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।
ক্যালকুলেটরে প্রদর্শিত নতুন পে স্কেলের সব গ্রেডের বেতনধাপের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে হিসাবের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ক্যালকুলেটরের নিচে থাকা ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর মূল গেজেটের সঙ্গে যাচাই করা আবশ্যক। বাড়িভাড়া ভাতার হারও সংশ্লিষ্ট পে-স্লিপ অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে। এই টুলটি কোনো সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থা নয়; এটি কেবল একটি অনানুষ্ঠানিক হিসাব সহায়ক। বেতনের চূড়ান্ত হিসাব আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য
নাম, পদবি ও অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখুন। এই তথ্য ছাপা বিবরণীর একদম উপরে আসবে। ঘরগুলো ফাঁকা রাখলেও হিসাব হবে।
বেতন সংক্রান্ত তথ্য
গ্রেড: ২০১৫ স্কেলে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে গ্রেডে ছিলেন, তালিকা থেকে সেটি বাছুন।
৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন: পে-স্লিপ দেখে তালিকা থেকে নিজের অঙ্ক বাছুন। তালিকায় না থাকলে “অন্য অঙ্ক লিখব” বেছে অঙ্ক লিখুন।
১ জুলাই ২০২৬-এ গৃহীত মূল বেতন: জুলাইয়ে বার্ষিক বৃদ্ধিসহ পুরোনো স্কেলে যে মূল বেতন তুলেছেন, সেটি দিন।
কর্মস্থল: বাড়ি ভাড়ার হার ঠিক করার জন্য কর্মস্থল বাছুন। নিচের হার ঘরটি নিজে থেকে বদলাবে, তবে পে-স্লিপের হারের সঙ্গে মিলিয়ে সেখানে সংশোধনও করা যাবে।
বকেয়ার মাস: ডিফল্ট ৩ মাস (জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর)। প্রয়োজনে ১ থেকে ৬ পর্যন্ত বদলানো যায়।
বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির টিক: ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির বয়স ৬ মাস পূর্ণ না হলে টিক তুলে দিন।
ঐচ্ছিক ঘর
পে-স্লিপে বাড়ি ভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাব থেকে আলাদা হলে প্রকৃত অঙ্ক এখানে লিখুন। আইবাস বা গেজেট থেকে নতুন মূল বেতন জানা থাকলে সেটিও দেওয়া যায়, তখন ক্যালকুলেটর সেটিই ধরবে।
প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ামাত্র নিচে বিবরণী তৈরি হবে। এতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপগুলো এবং প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতন (গ্রেড ১০–২০-এ বৃদ্ধির ৫০%, গ্রেড ১–৯-এ ৪০%) থাকবে।
মাসিক হিসাব: প্রাপ্য ও গৃহীত মূল বেতনের পার্থক্য, ৩০ জুনের মূল বেতনে প্রাপ্য বাড়ি ভাড়া বনাম গৃহীত মূল বেতনে তোলা বাড়ি ভাড়ার সমন্বয়, এবং বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধা (১০% বা ১৫%) বিয়োগ।