‘সে আমার সহপাঠী’—ফটোগ্রাফার বন্ধুকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী © সংগৃহীত
‘সে আমার সহপাঠী। সে সয়েল সায়েন্স (মৃত্তিকা বিজ্ঞান) বিভাগে পড়াশোনা করেছে।’— এমন কথা বলেই নিজের বন্ধুকে মঞ্চে ডেকে নেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মন্ত্রীর ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক ভিডিওতে এ ঘটনা দেখা যায়।
ভিডিওতে মন্ত্রী বলেন, সে ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে কারণ সে এই কাজটা ভালোবাসে। সে এই পেশার প্রতি নিবেদিত। সে যা করছে, তা সে ভালোবাসে। আর ঠিক এই কারণেই সে এটা করছে। আমাদের দুজনের বয়স তো আর এক নয়, তাই না? আমি তোমার চেয়ে অনেক ছোট।’
জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া এই আলোকচিত্রীর নাম শেখ এয়ার আহমেদ; যিনি সবার কাছে ‘পিয়ারু ভাই’ নামে বেশি পরিচিত। ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী থাকাকালে তাঁর আলোকচিত্রের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে তিনি লাখ লাখ মানুষের ছবি ধারণ করেছেন এবং ক্যাম্পাসের অসংখ্য স্মৃতি ও ইতিহাস ক্যামেরাবন্দী করেছেন। বয়স ৭০ পেরিয়েও ভারী ক্যামেরার ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছুটে যান তিনি। নিজের সংগ্রহে থাকা দুর্লভ ছবি ও তথ্য সংরক্ষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে একটি বই প্রকাশের স্বপ্ন দেখছেন এই প্রবীণ আলোকচিত্রী।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পিয়ারু ভাইয়ের কদর কমলেও ছবি তোলা কমেনি। মানুষ আমার ক্যামেরার সামনে আগের মতোই আগ্রহ নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। তবে ব্যবসা কমেছে। আগে ১০ হাজার ছবি প্রিন্ট করলে আট হাজারই বিক্রি হয়ে যেত। এখন অনিশ্চয়তাটা থেকেই যায়। তাই এখন যদি প্রিন্ট করা ছবির অর্ধেকও বিক্রি হয়, তাতেই খুশি হই। প্রতিবছর কম করে হলেও তিন লাখের মতো ছবি তুলছি।’
এদিকে মন্ত্রীর এই কর্মকাণ্ড নেটিজেনদের কাছেও সুনাম কুড়িয়েছে। ফেসবুকে মাহমুদুল হাসান শাহীন নামের এক ব্যক্তি কমেন্ট করে লিখেন, ‘সর্বোচ্চ জায়গায় থেকেও নিজের বাল্য বন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার নাম হলো মনুষ্যত্ব।’