ব্যালন ডি’অরে সবচেয়ে সফল মেসির আর্জেন্টিনা, রোনালদোর পর্তুগাল কত

২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ AM
 মেসি ও রোনালদোর ব্যালন ডি'অর পুরস্কার

মেসি ও রোনালদোর ব্যালন ডি'অর পুরস্কার © সংগৃহীত

ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে দেশভিত্তিক সাফল্যে শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। দুই দেশের খেলোয়াড়েরা আটবার করে এই পুরস্কার জিতেছেন। তবে আর্জেন্টিনার আটটি পুরস্কারই এসেছে এক কিংবদন্তির হাত ধরে—লিওনেল মেসি। অন্যদিকে, পর্তুগালের খেলোয়াড়েরা সাতবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, যার পাঁচটিই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। ফলে ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে মেসি ও রোনালদোর দেশও নিজেদের সাফল্যের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছে।

১৯৫৬ সালে যাত্রা শুরু করা ব্যালন ডি’অর সাত দশক ধরে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত কৃতিত্বের অন্যতম স্বীকৃতি হিসেবে পরিচিত। সময়ের সঙ্গে এই পুরস্কার ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা রেকর্ড, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও স্মরণীয় অধ্যায়। কেউ একাধিকবার জিতে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন, আবার কেউ দেশের হয়ে প্রথমবার এই সম্মান এনে দিয়েছেন। দেশভিত্তিক হিসাব দেখলে বোঝা যায়, কোন দেশের ফুটবলাররা দীর্ঘ ইতিহাসে কতটা প্রভাব রেখেছেন।

আর্জেন্টিনার আটটি ব্যালন ডি’অরই জিতেছেন মেসি। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালে এই পুরস্কার জিতে তিনি এমন এক রেকর্ড গড়েছেন, যেখানে একটি দেশের মোট অর্জন একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে মিশে গেছে। ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক নৈপুণ্য, গোল, অ্যাসিস্ট ও ম্যাচে প্রভাব রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন মেসি। তার অর্জনের মধ্য দিয়ে ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা অন্যতম সফল দেশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

ফ্রান্সও আটটি ব্যালন ডি’অর জিতে আর্জেন্টিনার সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে। তবে দেশটির সাফল্য এসেছে একাধিক প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মাধ্যমে। রেমন্ড কোপা ১৯৫৮ সালে প্রথম ফরাসি হিসেবে এই পুরস্কার জেতেন। এরপর মিশেল প্লাতিনি ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে টানা তিনবার পুরস্কার পান। জ্যঁ-পিয়ের পাপাঁ ১৯৯১ সালে, জিনেদিন জিদান ১৯৯৮ সালে, করিম বেনজেমা ২০২২ সালে এবং উসমান দেম্বেলে ২০২৫ সালে ব্যালন ডি’অর জেতেন। ফলে ফ্রান্সের অর্জনে বিভিন্ন সময়ের তারকাদের অবদান রয়েছে।

পর্তুগালও ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সফল দেশগুলোর অন্যতম। দেশটির খেলোয়াড়েরা মোট সাতবার এই পুরস্কার জিতেছেন। ইউসেবিও ১৯৬৫ সালে প্রথম পর্তুগিজ হিসেবে পুরস্কার পান। এরপর ২০০০ সালে লুইস ফিগো ব্যালন ডি’অর জেতেন। তবে পর্তুগালের সাফল্যের বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তিনি ২০০৮, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মোট পাঁচবার এই পুরস্কার জেতেন। তার ব্যক্তিগত অর্জন পর্তুগালকে ব্যালন ডি’অরের দেশভিত্তিক তালিকায় শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রেখেছে।

জার্মানির খেলোয়াড়েরাও সাতবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। গার্ড মুলার ১৯৭০ সালে এই সম্মান পান। ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ১৯৭২ ও ১৯৭৬ সালে দুবার পুরস্কার জেতেন। কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালে টানা দুইবার ব্যালন ডি’অর পান। পরে লোথার ম্যাথাউস ১৯৯০ সালে এবং ম্যাথিয়াস সামার ১৯৯৬ সালে এই পুরস্কার জেতেন। জার্মানির এই সাফল্য দেশটির ফুটবল ইতিহাসে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও দলীয় অর্জনের দীর্ঘ ঐতিহ্য তুলে ধরে।

নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়েরাও সাতবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। ইয়োহান ক্রুইফ ১৯৭১, ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে তিনবার এই পুরস্কার পান। রুড গুলিট ১৯৮৭ সালে এবং মার্কো ফন বাস্তেন ১৯৮৮, ১৯৮৯ ও ১৯৯২ সালে পুরস্কার জেতেন। বিশেষ করে ক্রুইফ ও ফন বাস্তেনের একাধিকবার পুরস্কার জয় নেদারল্যান্ডসকে ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে।

ব্রাজিল, ইংল্যান্ড ও ইতালির খেলোয়াড়েরা পাঁচবার করে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। ব্রাজিলের হয়ে রোনালদো নাজারিও ১৯৯৭ ও ২০০২ সালে, রিভালদো ১৯৯৯ সালে, রোনালদিনহো ২০০৫ সালে এবং কাকা ২০০৭ সালে পুরস্কার জেতেন। ব্রাজিলের এই অর্জনে বিভিন্ন প্রজন্মের আক্রমণাত্মক ও সৃজনশীল ফুটবলারদের অবদান রয়েছে।

ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউস ১৯৫৬ সালে পুরস্কার পান। ব্যালন ডি’অরের প্রথম বিজয়ীও তিনি। এরপর ববি চার্লটন ১৯৬৬ সালে, কেভিন কিগ্যান ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে এবং মাইকেল ওয়েন ২০০১ সালে এই সম্মান অর্জন করেন। এবারের আয়োজনের জন্য লন্ডনকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্ট্যানলি ম্যাথিউসের ঐতিহাসিক ভূমিকার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

ইতালির হয়ে ওমর সিভোরি ১৯৬১ সালে, জিয়ান্নি রিভেরা ১৯৬৯ সালে, পাওলো রসি ১৯৮২ সালে, রবার্তো বাজ্জিও ১৯৯৩ সালে এবং ফাবিও কানাভারো ২০০৬ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। ইতালির এই পাঁচটি পুরস্কার দেশটির ফুটবল ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ের তারকাদের অবদানকে তুলে ধরে।

স্পেনের খেলোয়াড়েরা চারবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। আলফ্রেদো দি স্তেফানো ১৯৫৭ ও ১৯৫৯ সালে এবং লুইস সুয়ারেজ ১৯৬০ সালে এই পুরস্কার পান। এরপর দীর্ঘ বিরতি শেষে ২০২৪ সালে রদ্রি স্পেনের হয়ে ব্যালন ডি’অর জেতেন। তার এই অর্জন দেশটির তালিকায় নতুন সংযোজন।

ব্যালন ডি’অরের দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে তাই আর্জেন্টিনার সাফল্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে। ফ্রান্সের আটটি পুরস্কার এসেছে ছয়জন খেলোয়াড়ের মাধ্যমে, আর আর্জেন্টিনার আটটি পুরস্কারই জিতেছেন মেসি। পর্তুগালের সাতটি পুরস্কারের পাঁচটি রোনালদোর দখলে। অর্থাৎ দেশগুলোর মোট অর্জনের পাশাপাশি মেসি ও রোনালদোর ব্যক্তিগত আধিপত্যও এই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ব্যালন ডি’অরের সাত দশকের ইতিহাসে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, ধারাবাহিকতা ও দলীয় সাফল্যের সমন্বয় বারবার আলোচনায় এসেছে। মেসির আর্জেন্টিনা, রোনালদোর পর্তুগাল কিংবা একাধিক প্রজন্মের তারকাদের হাত ধরে এগিয়ে চলা ফ্রান্স—প্রতিটি দেশের সাফল্যের গল্প আলাদা। আর সেই গল্পগুলোই ব্যালন ডি’অরকে শুধু একটি পুরস্কার নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় করে তুলেছে।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে জাবিপ্রবির ‘…
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
গোপালগঞ্জে সাড়ে ৭ কেজি গাঁজাসহ আটক ২
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
৫ম থেকে ১০ম গ্রেডে কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্…
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
নিজের বাসের চাপায় প্রাণ গেল মালিকের
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
রেকর্ড দেড় কোটি পয়েন্টে দল পেলেন শেখ মেহেদী
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬