নেইমার জুনিয়র © সংগৃহীত
ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানার পরপরই নতুন কোনো কাজে যুক্ত হতে চান না ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। বরং পেশাদার জীবনের ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে এক বছর নিজের মতো করে কাটাতে চান তিনি। যখন ফুটবল খেলতে ইচ্ছা হবে, তখনই খেলবেন। আর খেলতে মন না চাইলে কাটাবেন অলস সময়। অবসর-পরবর্তী জীবন নিয়ে নিজের এমন পরিকল্পনার কথাই জানিয়েছেন সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড।
নেইমার আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। তবে ক্লাব ফুটবল থেকে অবসরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি তিনি। পেশাদার ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর কীভাবে জীবন কাটাতে চান, তা নিয়ে অবশ্য ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
সম্প্রতি ব্রাজিলের অনুষ্ঠান ‘ভারান্দা গুরমে’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অবসর-পরবর্তী পরিকল্পনা, সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং মাঠের বাইরে ফুটবলের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন নেইমার। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো।
অবসরের পর কী করবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে নেইমার বলেন, ‘আমি যখন খেলা ছেড়ে দেব, তখন এক বছর কিছুই করব না। এমন হবে আজ ফুটবল খেলতে ইচ্ছা করছে, তাই খেলতে যাব। আজ কিছুই করতে ইচ্ছা করছে না, তাই কিছুই করব না।’
ফুটবল খেলতে ভালোবাসলেও টেলিভিশনে বসে ম্যাচ দেখতে খুব একটা আগ্রহী নন নেইমার। সাক্ষাৎকারে নিজের এই অভ্যাসের কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্যারিস ও বার্সেলোনায় থাকার সময় সতীর্থদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নেইমার জানান, ছুটির দিনে বন্ধুরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটবল দেখতেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে টেলিভিশনে খেলা দেখা তার পছন্দ ছিল না।
নেইমারের বলেন, মাঠে ফুটবল খেলাটা উপভোগ করেন তিনি, কিন্তু টেলিভিশনের সামনে বসে ম্যাচ দেখা তার কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে। প্রিয় বন্ধুদের খেলায় খারাপ পারফরম্যান্স দেখলেও নাকি মেজাজ খারাপ হয় তার। পেশাদার ফুটবলের ব্যস্ততা সামলানোর পাশাপাশি সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোও নেইমারের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনুশীলন ও ফিজিওথেরাপির কারণে সময়ের চাপ থাকলেও সন্তানদের পছন্দের কাজগুলো করার চেষ্টা করেন তিনি।
বিশেষ করে মেয়ের সঙ্গে অ্যানিমেটেড সিনেমা দেখার অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তার মেয়ে ‘শ্রেক’ ও ‘দ্য গ্রিঞ্চ’ সিনেমা দুটি খুব পছন্দ করে। তাই মেয়ের সঙ্গে বসে সেগুলো দেখেন নেইমার।
তিনি বলেন, ‘আমার জীবন খুব ব্যস্ত। ফিজিওথেরাপি করতে হয়, অনুশীলন থাকে। তারপরও সন্তানদের জন্য কিছু সময় আলাদা করে রাখি। ওরা যা পছন্দ করে, সেগুলো করার চেষ্টা করি।’