মেয়েদের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে ‘ক্ষ্যাপ মারা খেলোয়াড়’, খেলা বর্জন ঢাবির

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ PM , আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ PM
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ও লোগো

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ও লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

মেয়েদের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় ২০২৬-২৭ (ছাত্রী) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত সাত জন খেলোয়াড়ের বৈধ ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ফুটবল দল। ছাত্রত্ব যাচাই নিয়ে জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে নির্ধারিত ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের খেলা বর্জন করায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। এবারের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আর খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে। 

ঢাবি দলের কোচ ফয়সাল আহমেদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, খেলা শুরুর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে কিছু অবৈধ খেলোয়াড় (ক্ষ্যাপ মারা খেলোয়াড়) থাকার অভিযোগ তুলে তাদের কাগজপত্র দেখতে চেয়েছিল আমাদের প্লেয়াররা। এজন্য ক্রীড়া সংস্থার কাছে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, আমরা ৯ জনের ব্যাপারে এমনটা দাবি করেছিলাম। কিন্তু সাত জনেরই সার্ভারে তাদের তথ্য ‘নট ফাউন্ড’ দেখায়। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর ফলে ক্রীড়া সংস্থা আগামীকাল ১২টা পর্যন্ত সময় চেয়েছিল কাগজপত্র সাবমিট করার, এরমধ্যে আজকে খেলাটা চালিয়ে নিতে বলেছিল। কিন্তু আমাদের প্লেয়াররা কাগজপত্র না দেখানোয় খেলতে রাজি হননি। যার কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

ঢাবি দলের কোচ আরও বলেন, খেলোয়াড়দের কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন বয়স সর্বোচ্চ ২৬ বছর, বৈধ আইডি এবং নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকতে হবে। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে কিছু খেলোয়াড় ছিল, সেগুলো নিয়ে সন্দেহ থেকে এটা হয়েছে মূলত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রতিটি দলে ১৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ৭ জনের তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভারে ‘নট ফাউন্ড’ দেখা যায়। আমরা সন্দেহ করছি তাদের তাড়াহুড়া করে ভর্তি দেখিয়ে খেলতে নামিয়ে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, খেলাতে নামার আগে ঢাবির টিম থেকে আপিল করা হয়। ৮-৯ জনের ব্যাপারে আমাদের সন্দেহ হয়। কর্মকর্তারা সার্ভারের সমস্যার কথা জানাল, কিন্তু সার্ভারে সমস্যা নাই সেটা নিশ্চিত করি আমরা। তারপরও তাদের বৈধ ছাত্রত্বের প্রমাণ নিশ্চিত করতে পারেননি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের প্রতিবাদের মুখে খেলাটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ম্যানেজার মো. সালাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দলের সবার ছাত্রত্ব রয়েছে, সব ডকুমেন্ট আমাদের কাছে আছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে খেলার মাঠে প্রেস ব্রিফিং করে ঢাবি দলের সদস্যরা। এ সময় ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

পরে আরমান হোসেন কর্তৃক পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতার আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। খেলার আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিমলা খাতুন, জোসনা, আনিকা, ফরিদা, প্রিয়াঙ্কা, তসলিমা, মাচিংনু, মাফুচিং ও মানচিংয়ের ছাত্রত্ব যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে অভিযোগপত্র জমা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, যাচাইয়ের সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড়ের তথ্য ‘Not Found’ দেখায়। তবে মানচিংয়ের তথ্য পাওয়া যায়। এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা সার্ভারের সমস্যার কথা জানান।

এ ছাড়া শিমলা খাতুন ও আনিকা সোরেনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যায়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তারা নতুন ভর্তি হয়েছেন বলে জানানো হলেও তাঁদের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের তথ্য নতুন করে ইনপুট দিতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খেলোয়াড়দের বৈধ ছাত্রত্বের প্রমাণ চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা নিশ্চিত করতে পারেননি। এ কারণে খেলোয়াড়দের যোগ্যতা নিয়ে তৈরি হওয়া সন্দেহের সমাধান না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল প্রতিবাদ জানায়। পরে নির্ধারিত ম্যাচটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

এর আগে, ঘটনার দুই দিন আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাচেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। সে সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়ে ম্যাচ বর্জন করে।

এ ছাড়া ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায়ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। সে ঘটনায় বৈধ ছাত্রত্বের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক খেলোয়াড়ের বৈধ ছাত্রত্ব থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো খেলোয়াড়ের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে যথাযথ প্রমাণ দেখাতে হয়। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির শেষে বলা হয়, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজক হলেই তারা নিয়মের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।

দেশে এনসিপি করতেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, বিদেশে গিয়ে পদত্যাগ …
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
নিজ ক্যাম্পাসের সিনিয়রকে বিয়ে করলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় …
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের অভিযোগে মাদ্রাসা ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের দু…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
কারিগরিতে নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী এখনো ৩০ শতাংশের নিচে
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
এসজেডএমসি ডে-২০২৬ উদযাপন কমিটির নেতৃত্বে ডা. বিটু-জহুরুল
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
যেভাবে গ্রেপ্তার হন ৫ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রশ্ন ফা…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬