ভিনি ও ফনসেকার © সংগৃহীত
মাঠে লাল কার্ড দেখে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় থাকা রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবার ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধাক্কা খেলেন। প্রেমিকা ভার্জিনিয়া ফনসেকার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে তাঁর। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার (১১ অক্টোবর) ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধিরা বিচ্ছেদের খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, কোনো ঝগড়া বা বিরোধ নয়, দুজনের সম্মতিতেই সম্পর্কের ইতি টানা হয়েছে।
ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধিদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই জুটি আর একসঙ্গে নেই। কোনো বিরোধ হয়নি, কোনো ঝগড়াও হয়নি। শুধু তারা আর যুগল হিসেবে একসঙ্গে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
ভিনিসিয়ুস ও ভার্জিনিয়ার সম্পর্ক নিয়ে ব্রাজিল ও স্পেনের সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিজেদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেন তাঁরা। তবে সম্পর্কটি খুব একটা স্থিতিশীল ছিল না। চলতি বছরের মে মাসে তাঁদের বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর জুলাইয়ে আবারও কাছাকাছি আসেন দুজন। তাঁদের একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যাওয়ায় সম্পর্ক নতুন করে জোড়া লাগার ইঙ্গিত মিলেছিল। কিন্তু সেই সম্পর্কও শেষ পর্যন্ত তিন মাসের বেশি টিকল না।
সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে স্প্যানিশ ফর্মুলা ওয়ান গ্রাঁ প্রিতে হাত ধরে একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস ও ভার্জিনিয়া। তাঁদের সেই উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে এর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও বিচ্ছেদের খবর সামনে এল।
বিচ্ছেদের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ভার্জিনিয়ার একা ভ্রমণকে কেন্দ্র করে তাঁদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। তবে তখন তাঁর প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন, সাবেক স্বামী সংগীতশিল্পী জে ফেলিপের সঙ্গে সন্তানদের সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতেই ওই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ফলে মায়ামি সফরকে বিচ্ছেদের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ভার্জিনিয়া ব্রাজিলের পরিচিত একজন ইনফ্লুয়েন্সার। ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্টের প্রতিবেদনেও তাঁর দপ্তরের মাধ্যমে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভিনিসিয়ুস কিংবা ভার্জিনিয়া কেউই এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
ব্যক্তিগত জীবনের এই ধাক্কার পাশাপাশি মাঠেও কঠিন সময় পার করছেন ভিনিসিয়ুস। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর রেফারির দিকে আক্রমণাত্মকভাবে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ম্যাচের প্রতিবেদনে রেফারি এ বিষয়ে উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে।
লাল কার্ডের কারণে সাধারণত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন ভিনিসিয়ুস। সে ক্ষেত্রে ১৯ অক্টোবর সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে রেফারির সঙ্গে আচরণের ঘটনায় অতিরিক্ত শাস্তি পেলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়তে পারে। তেমনটি হলে ২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোতেও খেলতে পারবেন না ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
সব মিলিয়ে মাঠের পারফরম্যান্স, সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিচ্ছেদ—তিন দিক থেকেই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এখন দেখার বিষয়, মাঠের বাইরের এই পরিস্থিতি সামলে কবে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।