শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ সরকারের লোগো © সংগৃহীত
বরিশাল জেলা মহানগরী ও সদর উপজেলার ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ এবং ৪টি বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত ও সংস্কার করা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে কাউনিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, শহীদ জিয়াউর রহমান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং বেগম তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মহিলা কলেজে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান ৩ টিতে ছয়তলা ভবন নির্মাণের উপযোগী ভিত্তির ওপর একতলা করে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবন সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে শ্রেণিকক্ষের সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে, চারটি বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত ও সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে আব্দুল মজিদ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পঞ্চগ্রাম সম্মেলনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রামকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শায়েস্তাবাদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রত্যেকটি ১৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো ভবন সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করবে। তবে অবকাঠামো উন্নয়নের সুফল নিশ্চিত করতে নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং ভবনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।
বেগম তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোকলেসুর রহমান বলেন, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে কলেজের শ্রেণিকক্ষের সংকট অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে এবং আরও উন্নত পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এ অবকাঠামোগত উন্নয়ন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশিকুর রহমান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও বিদ্যমান ভবন সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।