শিক্ষার্থীরা নতুন বই পাবে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার দিন: শিক্ষামন্ত্রী

১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ PM , আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯ PM
বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নির্বাহী কমিটির সমাবেশ

বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নির্বাহী কমিটির সমাবেশ © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৭ সালের নতুন বছরের প্রথম দিন নয়, চলতি বছরের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার দিনই শিক্ষার্থীরা নতুন পাঠ্যবই পাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর গাউসুল আজমস্থ কমপ্লেক্সে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নির্বাহী কমিটির সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

সরকার মানসম্পন্ন বই দিতে বদ্ধপরিকর মন্তব্য করে এসময় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যদি কোনো প্রিন্টার্স খারাপ বই দেয় কিংবা চাহিদার তুলনায় কম বই দেয় তাহলে আপনারা সেগুলো গ্রহণ করবেন না। 

তিনি বলেন, এবার আমরা যেদিন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার পরীক্ষা শেষে বন্ধ হবে সেদিন সকল শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেব। মাদ্রাসা প্রধানদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, কোনো প্রিন্টার্স যদি আমাদের স্পেসিফিকেশন যেভাবে দিয়েছি তার বাইরে  অর্থাৎ কাগজের গ্রেডিং যদি কম হয়, খারাপ হয়, বাইন্ডিং যদি খারাপ হয়, আপনারা সেই বই গ্রহণ করবেন না এবং যত পরিমাণ বই আপনাকে রিসিভ করার কথা, তার নিচে একটি বইও রিসিভ করবেন না। 

শিক্ষার্থীদের হাতে ভালো মানের বই তুলে দিতে শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে দেখা গিয়েছে যে প্রিন্টার্সগুলো সঠিক কাগজে দেয়নি, সময়মতো বই দেয়নি। এবার আপনারা প্রতিটি মাদ্রাসা ও প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে দৃষ্টি রাখবেন। আমরা প্রিন্টার্সদের ৯০% বিল পরিশোধ করেছি, বাকিটা স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে যেদিনই বই উঠবে, সেই বইগুলো আমরা পর্যালোচনা করবো, তারপরে বাকি টাকা দেবো। কারণ এবার আমরা প্রিন্টার্সদের যেভাবে দরপত্র দিয়েছি, বাজার দরে তারা পেয়েছে, ফলে কোনো অবস্থাতেই এর মধ্যে কোনো রকম দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। ফাঁকি যেন না নিতে পারে, সেই জন্য আপনাদের সকলের দৃষ্টি থাকার প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি।

জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সঙ্গে জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়া-তারেক রহমান ও নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জমিয়াতুল মোদার্রেছীন গঠন করেছিল মাওলানা আব্দুল মান্নান সাহেব, তিনি নিজে শিক্ষক ছিলেন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবের সাথে তিনি কাজ করেছিলেন। উনি জানতেন, শহীদ জিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নতির জন্য, উন্নয়নের জন্য কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন এবং কি ধরনের কাজ করেছিলেন, এই ব্যাপারে আমরা সকলে জানি। তিনি প্রথম মাদ্রাসা শিক্ষাতে সাধারণ শিক্ষাকে সম্পৃক্ত করেছে। মাদ্রাসা শিক্ষককে সমমানের শিক্ষা উন্নত করার জন্য সেই সময়ে তিনি ৫০০ নাম্বার এড করেছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সময় আমার কাজ করা শুরু হয়েছিল মাওলানা মান্নান সাহেবের সাথে, আমরা এই বিষয়ে বহুবার আলোচনা করেছি, কথা হয়েছিল কীভাবে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করা যায়, সেই বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আমরা কাজ করেছিলাম। 

‘‘তিনি মাদ্রাসা শিক্ষাতে আরো কার্যকারী করার জন্য এই সাথে কারিগরি শিক্ষাকেও দাখিল ভোকেশনাল এবং আলিম ভোকেশনাল পর্যন্ত করা হয়েছিল। উনার সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু করে সব জায়গায় ভর্তি শুরু হয়েছিল এবং মাদ্রাসা বোর্ডকে ফাজিল এবং কামিলের জন্য কুষ্টিয়া ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। গুণগত মান পরিবর্তনের জন্য— যা বর্তমানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা পড়বে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হবে, সর্বক্ষেত্রে ইসলামী চিন্তা-ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়, একইসঙ্গে কুরআন-হাদিসের উপর ধারণাসহ সত্যিকারে ধর্মীয় শিক্ষায় আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হয় সেই ব্যাপারেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মাদ্রাসার শিক্ষাতে গুরুত্ব দিয়েছেন, বাজেট বাড়িয়েছেন এবং সেই সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে শিক্ষা ছাড়া এই জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষাকে মাদ্রাসা বোর্ড, অধিদপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয় সবাই কাজ করছে।’’

তিনি বর্তমান সরকারের সময়ে গ্রহণ করা শিক্ষাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, ৭৭ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জমিয়াতুল মোদার্রেছীন বিএনপি সরকারের সাথে সব সময় ছিল, কাজ করছে, তাদের আদর্শ, উদ্দেশ্য দেশ গঠন করা, শিক্ষার্থীদের থেকে সঠিকভাবে লেখাপড়া করানো, তাদের আত্মনিয়োগ। এই বিষয়ে বিএনপি সরকারের সাথে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের কোনো পার্থক্য আমার পরিলক্ষিত হয়নি। 

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যক্ষ সাব্বির আহমদ মোমতাজী।

শিক্ষাখাতের উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর: ভূমিমন্ত্রী
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তে সচেতনতা জোরদারের আহ…
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
রুয়েটে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি …
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
যার এলাকায় রাশেদ খাঁন নেই, তারা কি সরকারি চাকরি করার অধিকার…
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ৫০ কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে বিভিন্ন পদে,…
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬
অর্জিত গণতন্ত্রকে একটি কার্যকর সংসদে রূপ দিতে হবে : জহির উদ…
  • ১০ অক্টোবর ২০২৬