যশোর শিক্ষাবোর্ড © সংগৃহীত
যশোর শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত ২ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ২৯৮ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১ হাজার ৮৫৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে খুলনা জেলায়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর জেলা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বৃত্তির ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বোর্ডের অধীন ১০টি জেলার শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি পেয়েছে।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে খুলনা জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি ৫৪৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১১৬ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৪২৮ জন রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যশোর জেলা থেকে বৃত্তি পেয়েছে ৪৬৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৭৮ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৩৮৬ জন রয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলায় মোট ৩৪১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ২৭ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৩১৪ জন রয়েছে। ঝিনাইদহ জেলায় বৃত্তি পেয়েছে ২৭৬ জন। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩৩ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ২৪৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলায় মোট ২৬৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১৮ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ২৪৫ জন রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় বৃত্তি পেয়েছে ১৯২ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৭ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১৮৫ জন রয়েছে।
বাগেরহাট জেলায় মোট ১৭১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ২ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১৬৯ জন রয়েছে। নড়াইল জেলায় বৃত্তি পেয়েছে ১১০ জন। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৫ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১০৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
মাগুরা জেলায় মোট ১০৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৯ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৯৭ জন রয়েছে। অন্যদিকে, মেহেরপুর জেলায় সবচেয়ে কম ৬৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৬১ জন রয়েছে।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি শর্ত ও নীতিমালা নির্ধারণ করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। সরকারি অনুমোদিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন দাবি করতে পারবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান এ নিয়ম লঙ্ঘন করে বেতন দাবি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃত্তির গেজেটে শিক্ষার্থী যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ থাকবে। তবে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের সনদ সাপেক্ষে শিক্ষার্থী যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে, সেখান থেকে বৃত্তির টাকা উত্তোলন করতে পারবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৃত্তির অর্থ উত্তোলন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৃত্তির টাকা উত্তোলন ও বিতরণে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃত্তি পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তাঁদের স্বভাব-চরিত্র সৎ হতে হবে। পাশাপাশি পড়াশোনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি বজায় রাখতে হবে। শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতি বিবেচনায় বৃত্তি অব্যাহত রাখার বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে নিয়ম অনুযায়ী বৃত্তি স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন জমা দিতে হবে।
বৃত্তির নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই বৃত্তির সংখ্যা, অর্থের হার এবং সময়সীমা সংশোধন বা বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করে। ফলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি পড়াশোনার অগ্রগতি বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা দেখুন এখানে।