সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন নিয়ে ফের দুঃসংবাদ দিল মাউশি

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক  © ফাইল ছবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর জানুয়ারি মাসের বেতন নিয়ে ফের দুঃসংবাদ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। চলতি সপ্তাহে জানুয়ারি মাসের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও তা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন না হওয়ায় এই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন ছাড়ের প্রস্তাব গত মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে চলতি সপ্তাহে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।’+

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ ধাপ মিলিয়ে ৩ লাখ ৪৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ছাড়ের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ার পর তা চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এরপর জিও জারি হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা জানুয়ারি মাসের বেতন তুলতে পারবেন। সে হিসেবে চলতি সপ্তাহে বেতন হওয়ার সম্ভাবনা কম।’

শিক্ষক-কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতনের প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (বাজেট) লিউজা-উল-জান্নাহ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জানুয়ারি মাসের বেতনের প্রস্তাব অনুমোদন দিতে আরও দুই-তিনদিন লাগবে।’ প্রস্তাব অনুমোদনে কেন বিলম্ব হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পান। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগার থেকে ছাড় হলেও তা রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে ছাড় হয়। এই অর্থ তুলতে শিক্ষকদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হতো।

ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বেতন-ভাতা ছাড়ের জন্য কয়েক পর্যায়ে অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট কাজে অনেক ক্ষেত্রেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পেতে দেরি হয়। অনেক সময় পরের মাসের ১০ তারিখের পরও আগের মাসের বেতন-ভাতা জোটে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইএফটিতে বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওর বেতন-ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের ২০৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অক্টোবর মাসের এমপিও ইএফটিতে ছাড় হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১ জানুয়ারি ১ লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষক ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা পেয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে ৬৭ হাজার, তৃতীয় ধাপে ৮৪ হাজার এবং চতুর্থ ধাপে ৮ হাজার ২০০ এর অধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে ডিসেম্বর মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। তবে তারা এখনো জানুয়ারি মাসের বেতন পান নি।


সর্বশেষ সংবাদ