ঢাবির সেই ৯১ ভর্তি জালিয়াতের ছাত্রত্ব বাতিল হচ্ছে

  © ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী এবং তাদের সহায়তাকারী ৯১ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই শিক্ষার্থীদের সব তথ্য ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়াদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আমরা এখন পর্যন্ত ৯১জনের তথ্য হাতে পেয়েছি, যাদের ব্যাপারে আরো তদন্ত চালাচ্ছে গোয়েন্দারা।’

তিনি বলেন, ‘তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের পাশাপাশি উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের প্রচলিত আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এছাড়াও জালিয়াতির সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান ঢাবি প্রক্টর।

এর আগে ওই শিক্ষার্থীদের তথ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেওয়া হয়। সিআইডির পক্ষ থেকে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব শিক্ষার্থীর বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছিল । পরে গত সপ্তাহে সিআইডিকে এসব তথ্য দেয় প্রশাসন।

জানা গেছে, সিআইডির চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে-অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ নাম, ঠিকানা, শিক্ষাবর্ষ, ইউনিট, বিষয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল, সেমিস্টারভিত্তিক পরীক্ষার ফলাফল এবং পুনঃভর্তির বিস্তারিত।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর সিআইডির পক্ষ থেকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার তদন্তের জন্য সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী সুপার সুমন কুমার দাশ স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য চাওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১৩ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ৯, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের আট, অর্থনীতি বিভাগের পাঁচ, মনোবিজ্ঞানের পাঁচ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চার, আইন বিভাগের চার, ইসলামিক স্টাডিজের চার, পদার্থবিদ্যার তিন, ফার্মেসির তিন, বাংলার তিন, বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব ও সংস্কৃতির তিন, ফলিত রসায়নের দুই, ইতিহাসের দুই, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির দুই, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের দুই, ফিন্যান্সের দুই, মার্কেটিং বিভাগের দুই, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের দুই, স্বাস্থ্য অর্থনীতির দুই, ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের দুই এবং সংস্কৃতি বিভাগের দু’জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ বৈকল্য, হিসাববিজ্ঞান, ইংলিশ ফর আদার ল্যাংগুয়েজ, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান এবং পালি বিভাগসহ আরও বেশ কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীর তথ্য চেয়েছে সিআইডি।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামান জানিয়েছিলেন, সিআইডির পক্ষ থেকে আমাদের কাছে এরকম একটি চিঠি এসেছে। সেখানে সিআইডি ভর্তি জালিয়াতি সংক্রান্ত ঘটনায় কিছু শিক্ষার্থীর বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল। আমরা সেগুলো সিআইডিকে দিয়েছি।

আরো পড়ুন: ঢাবির ৯১ ভর্তি জালিয়াত সনাক্ত, তথ্য সিআইডির হাতে

জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত বুধবার মানববন্ধন ও ভিসি বরাবর স্মারণলিপি দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এ ব্যাপারে একমত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব ছাত্র সংগঠনের নেতারা, রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারাও। 


সর্বশেষ সংবাদ