অপ্রতীমকে হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট, পুলিশের তদন্তে উঠে এল যেসব তথ্য

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৯ AM
স্কুলছাত্র অপ্রতীম

স্কুলছাত্র অপ্রতীম © সংগৃহীত

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। এতে দুই কিশোরসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যার পরিকল্পনা ও সহযোগিতার অভিযোগও আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ২০ অক্টোবর দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

অভিযোগপত্রে আসামি হিসেবে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, ওই দুই কিশোরকে অভিযোগপত্রে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ বলেন, তুহিন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত। অপ্রতীমকে হত্যার পরিকল্পনায় সিয়ামও যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তুহিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে। সিয়ামের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা ও পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ জানায়, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী ওই দুই কিশোর তার মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। পরে তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছিল। তদন্তের বিবরণে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তুহিন এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর আসামি সিয়ামের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা ও পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বাদী ও অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমি তিন দিন আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে কল করে জানতে চেয়েছিলাম, আপনারা কবে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, পূজার ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। আজ (গতকাল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি আমাকে কল করেন এবং জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি তারা অবহিত করেছেন। এর বাইরে আমি আর কিছুই জানি না।’

তিনি বলেন, ‘অপ্রতিমকে ঘিরেই আমাদের বাঁচার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন তারা কেড়ে নিয়েছে। আমরা খুনিদের দ্রুত বিচার দেখতে চাই। আশা করব, আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।’

অপ্রতীমের পরিবারের কাছে অভিযোগপত্রের বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে দুই কিশোরের বয়স নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন রয়েছে তাদের। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছিল।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাওয়ার পর এ বিষয়ে আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে পরিবার।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ মামলাটির তদন্ত করেছেন। তিনি ছিলেন মামলাটির দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা।

গতকাল রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, পুলিশ সুপারের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শেষ করে ৩১ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

তবে শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে অভিযোগপত্র দাখিলের পরপরই আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হয়নি। পুলিশ সূত্র জানায়, ২০ অক্টোবর অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও ছুটি শেষে রবিবার থেকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। সে কোটবাড়ির বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ট্যাগ: অপ্রতীম
টুপটুপ রিসোর্টে আগুন ছড়িয়ে পড়ে কীভাবে, তদন্তে উঠে এল যেসব ত…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
আসামি ধরে থানায় ফেরার পথে সড়কে ঝরল বিএনপি নেতা ও এসআইয়ের প্…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
চার পদে ৪৪০ জনকে নিয়োগ দেবে আরআরএফ
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ফের চালু হচ্ছে এনইআইআর, অবৈধ ও অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ভবিষ্…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর?
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
অপ্রতীমকে হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট, পুলিশের ত…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬