লাল টি-শার্ট পরিহিত ব্যক্তির মারধরের শিকার আপন © সংগৃহীত
প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন আপনকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে একই কলেজের শিক্ষার্থী ওয়াজেদ আহমেদ ওমরের বিরুদ্ধে। তিনি লালবাগ থানা শ্রমিক দলের সদস্যসচিব নুর উদ্দিন আহমেদ মিন্টুর ছেলে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে গুজব ছড়ানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে আপনকে মারধর করা হয়। এতে তার কোমরের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করে পরিববার। এ ঘটনায় আপনের বাবা রুহুল আমিন বকুল বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চকবাজার থানাধীন ঢাকেশ্বরী বটতলাসংলগ্ন একটি সরকারি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এই ঘটনার ভিডিও সামনে আসলে ১৮ অক্টোবর চক বাজার থানায় মামলা করা হয়। মামলায় ওয়াজেদ আহমেদ ওমর (২৩), নুসরাত আহান (২২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নুসরাতের সঙ্গে ভুক্তভোগী আপনের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে ওয়াজেদ মিথ্যা গুজব ছড়ান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে ওয়াজেদের সঙ্গে আপনের কথা-কাটাকাটি ও তর্কবিতর্ক হয়। ওই বিরোধের জেরে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একই উদ্দেশ্যে গত ৫ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে চকবাজার থানাধীন ঢাকেশ্বরী বটতলাসংলগ্ন একটি সরকারি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় মীমাংসার কথা বলে আপনকে ডেকে নেন। সেখানে তাকে অবৈধভাবে আটকে রেখে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়।
এজাহার অনুযায়ী, প্রাণ বাঁচাতে আপন ওয়াজেদের পা ধরে ক্ষমা চাইলেও তাকে আবার বুকে, পিঠে ও কোমরের ওপরের অংশে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ওয়াজেদ তাকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ির ওপর ফেলে দেন। এতে আপনের কোমরের হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হয়। পরে আসামিরা তাকে ঘটনাস্থলে আহত অবস্থায় ফেলে চলে যান। এ সময় কয়েকজন সাক্ষী তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাকে বাসায় রেখে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন আপন বলেন, আমি কলেজে ছবি তুলতে ছিলাম। এ সময় একজন লোক আসে। এরপর তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক হয়। তার সাথে কথাবার্তা হয়, আমি মাফও চেয়েছি। ঘটনাটি প্রায় এক বছর আগের। ছবি তোলার পর বসে ছিলাম। অনেকক্ষণ পর একজন লোক এসে আমাকে ডাকেন। আমি তাকে চিনতাম না। তিনি আমাকে তার দিকে যেতে বলেন। আমি প্রথমে না করি। পরে তিনি আমার হাত ধরে টান দেন।
আপন আরও বলেন, তিনি আমার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘কিছু হবে না, আমরা চা খাব।’ এভাবে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে গেটের সামনে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা দেন। এরপর ধাক্কাধাক্কি করেন এবং আমার গেঞ্জি ধরে টান দেন। জোরে টান দেওয়ায় গেঞ্জি ছিঁড়ে যায়। সেখানে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। ভবনটির গেটের সামনে একটি টং দোকানও ছিল। ওই ব্যক্তি আমাকে ধাক্কা দিতে দিতে সেদিকে নিয়ে যান।
তিনি বলেন, আশপাশে মানুষ থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। ওই ব্যক্তি আমাকে অনেক দূরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি পেছনে তাকিয়ে দেখেছি, আশপাশে কেউ নেই। পরে তিনি আমাকে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে আমাকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর মারধর করেন। এভাবে অনেকক্ষণ ধরে নির্যাতন করেন। এ সময় তিনি আমার নাম জানতে চান।
এ বিষয়ে চকবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পাশে একটি ভবনে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে বোরহানউদ্দীন কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। তারা এখন জেলহাজতে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।