রামেকে অভিযান শেষে এসআরবির সংবাদ সম্মেলন © সৌজন্য প্রাপ্ত
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে সক্রিয় দালাল চক্রের সাত সদস্যকে আটক করেছে এসআরবি-৫। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে গোয়েন্দা নজরদারি চালান এসআরবি-৫-এর সদস্যরা। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের নানাভাবে প্রভাবিত করে প্রলোভন দেখানো, চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করা এবং বিভিন্ন দালালি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এই সাতজনকে শনাক্ত ও আটক করা হয়।
আটকের পর ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার। আদালত পরিচালনার সময় তিনি বলেন, হাসপাতালে আসা অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনদের জিম্মি করে দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপরাধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এবং হাসপাতালে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এরপর তিনি অপরাধের ধরন বিবেচনায় আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন,মো. দুলাল, আহসান আলী, মো. রনি, মুন্না বাবু দত্ত, শরিফুল, জাকির, মো. তালিমুল ইসলাম ও মো. বিপ্লব।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল রোগী ও তাদের স্বজনদের টার্গেট করে দ্রুত সেবা পাইয়ে দেওয়া, কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো কিংবা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার কথা বলে প্রলোভন দেখাত। পরবর্তীতে কৌশলে তাদের সরকারি হাসপাতাল থেকে সরিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেত।
অভিযান পরিচালনাকালে এসআরবি-৫-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।