ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফুটবল খেলায় পটকা ফাটানোর জেরে সংঘর্ষ, যুবক নিহত

নিহত মো. ইয়াকুব (৩২)
নিহত মো. ইয়াকুব (৩২)  © সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্টে পটকা ফাটানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ছয় থেকে সাতজন।  শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের নরসিংসার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. ইয়াকুব (৩২)। তিনি নরসিংসার গ্রামের উত্তর পাড়ার মৃত মো. আবদুল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন।

জানা যায়, হামলাকারীদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত তারেক একজন এমবিবিএস চিকিৎসক। তাঁর বড় ভাই রায়হান ও ছোট ভাই মো. তারিফ এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁরা নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক ওয়ার্ড সদস্য কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। এর মধ্যে তারেক (৩৪) ইয়াকুবকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের নরসিংসার গ্রামে সামিউন বাছির ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়। টুর্নামেন্টে গ্রামের ১৪টি দল অংশ নেয়। শুক্রবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় গ্রামের নাজাত গোষ্ঠীর নরসিংসার পশ্চিমপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও নরসিংসার উত্তরপাড়ার টাইগার স্পোর্টিং ক্লাব অংশ নেয়। বিকেল ৫টায় খেলা শুরু হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ট্রাইবেকারে খেলার ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। 

ট্রাইবেকারে ২-১ গোলে নরসিংসার পশ্চিমপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষ হওয়ার পর চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা মাঠে পটকা ফুটানো শুরু করেন। এ সময় আয়োজকরা মাইকে পটকা ফুটানো বন্ধের জন্য বার বার বলেন। সেসময় নরসিংসার গ্রামের নাজাত গোষ্ঠীর উত্তরপাড়া গ্রামের  নাজাত গোষ্ঠীর দ্বীন ইসলাম দিলু এগিয়ে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন দলের পশ্চিমপাড়ার খেলোয়াড়দের পটকা ফুটানো বন্ধ করতে বলেন। এ নিয়ে একই গোষ্ঠীর পশ্চিমপাড়ার সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস মিয়ার ছেলে চিকিৎসক মো. তারেকের সঙ্গে চাচাতো ভাই দ্বীন ইসলামের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

এদিকে আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াকুবকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে মো. কামাল (৩৮) ও জুয়েল মিয়াকে (২৭) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে পটকা ফাটানোকে কেন্দ্র করে একই গোষ্ঠীর দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ হয়। পশ্চিম পাড়ার দলের সমর্থক চিকিৎসক মো. তারেকের ছুরিকাঘাতে ইয়াকুব নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে উপস্থিত লোকজনের সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে। 

 

সর্বশেষ সংবাদ