সাদমান ইসলাম ও লিটন দাস © সংগৃহীত
আলোকস্বল্পতার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবারও মাঠে গড়িয়েছিল খেলা। তবে চার ওভারের বেশি খেলা চালানো সম্ভব হয়নি। বাজে আলোর কারণে ফের খেলা বন্ধ করতে বাধ্য হন ফিল্ড আম্পায়াররা। পরে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করেন তারা।
প্রথম দিনে মোট ৭৪ ওভার খেলা হয়েছে। দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২১৩ রান।
আলোকস্বল্পতার কারণে আর খেলা মাঠে না গড়ানোয় সেঞ্চুরির অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো সাদমান ইসলামের। ৯৯ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ডাগআউটে ফেরার সময় তার মুখে ছিল অসহায়ত্ব আর বিভ্রান্তির মিশ্র হাসি।
তবে মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে গ্যালারির দর্শক, সতীর্থ ও দলের সাপোর্ট স্টাফদের কাছ থেকে পান দারুণ অভ্যর্থনা। করতালিতে তাকে অভিনন্দন জানান সবাই। সতীর্থ লিটন দাসও পিঠ চাপড়ে দিয়ে সাদমানকে উৎসাহ জোগান।
এক রানের আক্ষেপ নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করলেও দ্বিতীয় দিনে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার সুযোগ থাকছে সাদমানের সামনে। অন্যপ্রান্তে ১০ রানে অপরাজিত থাকা লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং শুরু করবে বাংলাদেশ।
হোম অব ক্রিকেটে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তবে ৯ রানে তানজিদ হাসান ফিরলেও মুমিনুল হকের সঙ্গে সাদমান ইসলামের ৫৯ রানের জুটি প্রাথমিক চাপ সামাল দেয়। মুমিনুল ২৮ রান করে ফেরার পর শান্তর সঙ্গে জুটি গড়েন সাদমান। তবে ১৯ রান করে এলবিডব্লিউ হন অধিনায়ক শান্ত। এরপর তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন সাদমান।
ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট অর্ধশতক তুলে নেন সাদমান। অন্যদিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রান বাড়ান হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ৬৭ রান। চা বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৭৭ রান।
চা-বিরতির পর অবশ্য ক্র্যাম্পে ভুগতে থাকেন হৃদয়। ব্যথা নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ৮৪ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। পরে স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। হৃদয়ের জায়গায় ব্যাট করতে নামেন লিটন দাস।
এরপর দেখেশুনে বাকিটা দিন পাড় করেন লিটন-সাদমান। তবে বাজে লাইটিংয়ে ম্যাচ বারবার বন্ধ থাকায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে নেওয়ার আক্ষেপ থেকেই হয়তো দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন সাদমান।