নেত্রকোনা

বিদ্যালয় রক্ষায় নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, মানববন্ধন

২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৬ PM
বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয়দের মানববন্ধন

বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয়দের মানববন্ধন © সংগৃহীত

নেত্রকোনার মদনে মগড়া নদীর ভাঙন থেকে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী, ভেজা বালু ব্যবহার এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে না জানিয়ে গোপনে কাজ শেষ করার অভিযোগ তুলেছেন তারা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মগড়া নদীর ভাঙনে বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে পড়ে এবং ইতোমধ্যে একটি শ্রেণিকক্ষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরে বিদ্যালয়টি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পের কাজ শুরুতে এলাকাবাসী আশাবাদী হলেও কাজের মান নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরুর বিষয়ে প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। তদারকির অভাবে ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ও ভেজা বালু ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এতে কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দা হুসাইন কবির পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমানের যোগসাজশে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাভলী আক্তার, অভিযোগকারী হুসাইন কবির, স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম আকন্দ, জাকির হোসাইন রুবেল, মনু মিয়া, চান মিয়া ও সায়েম মিয়া প্রমুখ।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা সায়েম মিয়া বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঠিকমতো কাজ পরিদর্শন করেছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে খরচ হলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হতো।

আশরাফুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘বিদ্যালয়টি রক্ষার খবরে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে এক বর্ষাও টিকবে না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাভলী আক্তার বলেন, ‘বিদ্যালয় রক্ষায় মগড়া নদীর ভাঙন রোধ প্রকল্প বরাদ্দ হওয়ায় আমরা আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু কাজের শুরু থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদার এলাকাবাসী এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে চোর-পুলিশ খেলা শুরু করেছে। কাজ শেষ হয়ে গেলেও প্রাক্কলন সম্পর্কে কাউকে কিছু জানানো হয়নি। এই প্রকল্পে সাগর চুরি হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। একজন ব্যক্তি অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা চাই সরকারের বরাদ্দকৃত টাকার যথাযথ ব্যবহারে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা হোক। ঠিকাদার অনিয়ম করে থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষকদের বদলির সভায় যা হলো
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষকদের বদলিতে কোনোভাবেই ‘ফ্রি স্টাইল’ নয়: শিক্ষামন্ত্রী
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৬ বছরে সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে ছাত্রশিবির-জামায়াত:…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
২৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট স্থগিত
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি দলের সাক…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সান্ধ্য আইন’ প্রতিষ্ঠার খবর গুজব: ইবি উপাচা…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬