তাশরীফ ও তার বাবা © টিডিসি সম্পাদিত
গাজীপুরের আলোচিত জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে অসুস্থ বাবার খোঁজ না নেওয়া ও চিকিৎসার খরচ না দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে এবার তার বাবার একটি পুরোনো ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। ভিডিওতে বাবাকে ছেলের ওয়াজ, কোরআন তেলাওয়াত, গজল ও আজানের প্রশংসা করতে দেখা যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে তাশরীফ লিখেছেন, ‘এটা আমার সম্মানিত পিতার আসল রূপ।’ একই পোস্টে তিনি ‘টাকা দিলে এক রূপ না দিলে আরেক রূপ দেখানোর চেষ্টা করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও শেয়ার করে এসব কথা তুলে ধরেন তিনি।
ভিডিওতে তাশরীফের বাবা ছেলের তেলাওয়াতের প্রশংসা করে বলেন, ‘যে আমি নিজেও প্রতিদিন অন্তত প্রতিদিন অল্প কিছু হলেও ইউটিউবে সার্চ দিয়ে তার (তাশরীফের) ওয়াজটা শুনি এবং শোনার সময় আমার শরীরের লোমগুলি শিহরিত হয়ে উঠে। শুধু কি তাই, তার শুধু ওয়াজ নয়, তার কোরআন তেলাওয়াত বলেন, গজল বলেন, আজান বলেন, ওয়াজ বলেন, যে কোনো কিছু সে বলে শরীরটা লোমগুলি শিহরাইয়া উঠে এবং দিলটা যতই কঠিন থাকুক না কেন নরম হয়ে যায়।’
ছেলের তেলাওয়াতের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি তার তেলাওয়াত শুনলে আমি মনে করি শুধু বাংলাদেশ নয়, মিশরের কারীর চাইতে কম নয়, মিশরের কারী তার চাইতে তেলাওয়াত একটু কম নয়, এত সুন্দর তেলাওয়াত। আমার ছেলে যে এত কবি সেটা আমি জানতাম না, আজকে প্রমাণ হইল।’
ভিডিওর আরেকটি অংশে তাশরীফের বাবা তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘দুষ্কৃতি সন্তান, বদমাইশ এ, এরকম বেয়াদব সন্তান চাইলে জুতা পিটাইয়া তাদেরকে এই দেশ থেকে বের করবেন। এই দেশে যেন তারা না থাকে। সরকার বাহাদুরের কাছে আমার আবেদন, এই দেশে যেন তারা না থাকে, এই দেশে তাদেরকে রাখবেন না।’
এর আগে গতকাল গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাশরীফের বাবা হেদায়েতউল্লাহ অভিযোগ করেন, মানুষের কাছে ভিক্ষা করে ও টাকা চেয়ে তিনি ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন। অথচ এখন ছেলে তার খোঁজ নেন না, চিকিৎসার খরচ দেন না এবং বারবার ফোন করলেও সাড়া দেন না।
বাবার দাবি, ছোটবেলায় তাশরীফ অসুস্থ হলে তাকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল। ইমামতি করে অল্প আয় করায় ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হয়েছে তাকে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সে আজকে আমার খোঁজ-খবর লয় না, আমারে সে দেহেনা, আমারে টাকা-পয়সা দেয় না, আমি কষ্টের ভিতরে আছি। মানুষের কাছে ভিক্ষা কইরা কইরা অনেকদিন পর হাসপাতালে আমি চিকিৎসা কইরা তারে আল্লাহ মুক্তি করছে।’
তাশরীফের বাবা আরও অভিযোগ করেন, ছেলে তাকে চাকরি ছেড়ে দিলে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসে চাকরি ছাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বাবার এসব অভিযোগের পর তাশরীফের পুরোনো ভিডিও শেয়ার এবং ‘আমার সম্মানিত পিতার আসল রুপ’ ক্যাপশন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।