সাঈদীর মামলার বাদীর কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন, নানা নাটকীয়তার পর দাফন

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ AM
মানিক পশারীর কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

মানিক পশারীর কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন © সংগৃহীত

জামায়াত নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনভর উত্তেজনা চলে। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাধার মুখে তার দাফন এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে অনেকটা গোপনেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণে মরদেহ প্রশাসনের হেফাজতেও রাখা হয়।

পরে মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় পরিবারের নারী সদস্যদের মধ্যে তার স্ত্রী, মেয়ে ও বোন মিলে কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন। দাফনে কোনো পুরুষ স্বজন বা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি অংশ নেননি। তবে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন স্বজনরা। পরিস্থিতির কারণে পুলিশ মরদেহ সরিয়ে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায়। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর সদর থানা পুলিশ মরদেহ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে।

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহযোগিতায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে পরিবারের নারী সদস্যরা নিজেরাই কবর খুঁড়ে দাফনের কাজ সম্পন্ন করেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।’

তবে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে পিরোজপুর জেলা জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা বাধা সৃষ্টি করেননি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না। সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি যশোর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সোনালী ব্যাংকের মজুরিভিত্তিক ড্রাইভারদের চাকরি ১৬তম গ্রেডে …
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
টানা তৃতীয় দফায় কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত?
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি কাটিয়ে সচল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সেতু থেকে লাফিয়ে বাড়িতে আশ্রয় নেন যুবদল কর্মী কাওসার, সেখান…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬