গ্রেপ্তার চারজন © সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া, সরকারি কাজে বাধা ও বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে সাতকানিয়া থানার এসআই জায়েদ হোসেন বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করে দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর সংশ্লিষ্ট ধারা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলাটি দায়ের করেন।
এ ঘটনায় উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মীরনগর ও রসূলাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত মো. হাসিবুল ইসলাম (২২), মোহাম্মদ হোসাইন (৩০), লিয়াকত সিকদার (২৪) ও মো. আজাহার সিকদার (১৯) নামে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নিকট সোপর্দ করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কালিয়াইশ ইউনিয়নের নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা দেলোয়ার হোসেন (৩২) ও তার দুই বছর বয়সী মেয়ে ওয়াসিফার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
এ সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া হাইওয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পরে সাতকানিয়া থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) জাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপর হামলা করে গাড়ি ভাঙচুর এবং এক কনস্টেবলের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অনেকক্ষণ পর সেটি ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এমনকি আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও বাধা দেওয়া হয়।
পরে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হামলার সময় থানা পুলিশের টহল দলের দায়িত্বে থাকা এসআই জাহেদ হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হতাহতদের উদ্ধারের জন্য আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যায়৷ পথিমধ্যে দুষ্কৃতিকারী আমাদের উপর হামলার পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এতে আমাদের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশের উপর হামলা করে গাড়ি ভাঙচুর, অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে। এ মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।