টুপটুপ রিসোর্টে আগুন ছড়িয়ে পড়ে কীভাবে, তদন্তে উঠে এল যেসব তথ্য

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৪ AM , আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ AM
অগ্নিকাণ্ডের পর টুপটুপ রিসোর্ট

অগ্নিকাণ্ডের পর টুপটুপ রিসোর্ট © সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে রিসোর্টের নিচতলার একটি ফ্রিজে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ ও তদন্ত কমিটি। পরে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ এবং গুদামে থাকা দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে রিসোর্টের মালিক ও মামলার প্রধান আসামি মো. তানভীর সুলতান মিয়া পলাতক রয়েছেন। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন রিসোর্টটির সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন।

গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত তিনতলা রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত রিসোর্টটির দোতলা ও তিনতলার আটটি কক্ষে পর্যটকেরা অবস্থান করছিলেন। নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ ও কর্মীদের থাকার জায়গা।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার সহকারী ব্যবস্থাপককে জিজ্ঞাসাবাদ এবং এ পর্যন্ত অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে রিসোর্টের নিচতলার একটি ফ্রিজে শর্টসার্কিট হয়। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে।

ওসি বলেন, রিসোর্টের গুদামে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ ছিল। এর সঙ্গে তীব্র বাতাস ও কাঠের অবকাঠামোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী ধরনের রাসায়নিক পদার্থ সেখানে ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ বলেন, আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসছে। প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে আরও সময় লাগবে।

ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন এবং পরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সামনে এসেছে। বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।

টুপটুপে আগুন

প্রায় ২০ শতক জমির ওপর নির্মিত রিসোর্টটির কক্ষের মেঝে, দেয়াল ও সিঁড়ির বড় অংশ ছিল কাঠের। সড়কের দিকে গাছের খুঁটির ওপর রেস্তোরাঁর বর্ধিত অংশ তৈরি করা হয়েছিল। আগুনে এসব অংশও পুড়ে যায়।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে ১৬ অক্টোবর শুক্রবার রাতে নারী ও শিশুসহ ২১ জন পর্যটক রিসোর্টটিতে ছিলেন। পরদিন শনিবার ভোরে আইরিন জাহান ও ইসরাত জাহান সৈকতে বেড়াতে যান। সে সময় রিসোর্টে ছিলেন ১৯ জন। তাদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সাতজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। দুজন লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন। 

এ বিষয়ে ওসি আতিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার সহকারী ব্যবস্থাপকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় আটটি কক্ষে ১৯ জন অতিথি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্য দুজন লাফ দিয়ে রক্ষা পেয়েছেন। এই ১৯ জনের বাইরে কেউ নিখোঁজ রয়েছেন, এমন তথ্য তদন্তে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে লিখিত দাবিও আসেনি।

১০টি মরদেহ উদ্ধারের পর আরও একজন নিখোঁজ থাকার বিষয়টি সামনে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিস আবার তল্লাশি চালালেও কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১০ জনের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ রয়েছেন। বাকি ব্যক্তিদের পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত দশজনের মধ্যে আটজন

নিহতদের বাইরে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ছয়জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। অবস্থার অবনতি হলে তাদের মধ্যে চারজনকে শনিবার বিকেলে বিমানে ঢাকায় পাঠানো হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, হাসপাতালে এখন অগ্নিকাণ্ডে আহত কোনো রোগী ভর্তি নেই। স্বজনদের খোঁজে অনেকে হাসপাতালে আসছেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়। আগুনে মরদেহগুলো বিকৃত হয়ে যাওয়ায় নারী, পুরুষ কিংবা শিশু হিসেবে আলাদা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় সিআইডির সদস্যরা মর্গের হিমঘরে রাখা মরদেহগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পরীক্ষার জন্য সেগুলো ঢাকায় পাঠানো হবে।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে রিসোর্টের মালিক ও মামলার প্রধান আসামি মো. তানভীর সুলতান মিয়া পলাতক রয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তানভীর বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছেন। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদসহ অন্যরাও আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত রিসোর্টটির সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি।

কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশির ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ, ৫ জনের বিরুদ্…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
আজ থেকে নতুন সময়সূচিতে খোলা থাকবে রাজধানীর শপিংমল
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
কে সি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকসহ ৫০ জনকে নিয়োগ
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সাজেকে আন্দোলনকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের নিন্দা ছা…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
কেন বারবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আনের মৃত্যুর গুজব ওঠে?
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
টুপটুপ রিসোর্টে আগুন ছড়িয়ে পড়ে কীভাবে, তদন্তে উঠে এল যেসব ত…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬