তিন দাবি
খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্যালি © সংগৃহীত
পর্যটন মৌসুমে আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে খাগড়াছড়ির সাজেকের পর্যটন সড়কে যান চলাচল। তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া এবং প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধ এবং শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে গত ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় আবারও অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেন, জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানে রয়েছেন। তাদের দাবি, শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতার কারণে জুমচাষিরা নিজেদের জমিতে গিয়ে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কার করতে পারছেন না।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখছে না; বরং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংগঠন দুটির নেতারা বলেন, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষা এবং সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতা বন্ধে তাদের কথিত অবস্থান থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
পর্যটকদের এলাকা ছাড়ার অনুরোধ
এদিকে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বুধবারের মধ্যেই পর্যটন এলাকা ত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি। অবরোধের কারণে পর্যটন সড়কে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় এ অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে জরুরি সেবা ও সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত রাখার কথা জানিয়েছে সংগঠন দুটি। এর মধ্যে রয়েছে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী যান এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি।
দাবি বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমাধান না এলে সাজেকের পর্যটন সড়কে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে পর্যটননির্ভর এ এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য নতুন করে ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।