ট্রেনের টিকিট ছাড়ার পরপরই শেষ

ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রুটের টিকিট পেতে দুর্ভোগ

২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ AM
বেনাপোল এক্সপ্রেস

বেনাপোল এক্সপ্রেস © সংগৃহীত

ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পরপরই সব আসন বুকিং দেখানো হচ্ছে। পরে এসব টিকিটের কিছু অংশ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত যাত্রীদের কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে টিকিট কিনছেন, আবার অনেকে টিকিট না পেয়ে বাসে যাতায়াত করছেন। এ পরিস্থিতির জন্য টিকিট কালোবাজারি চক্রকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় টিকিটের সংকট দেখা দিয়েছে।

যশোর থেকে সরাসরি ঢাকা যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম রূপসী বাংলা ও বেনাপোল এক্সপ্রেস। যাত্রীদের অভিযোগ, এই দুই ট্রেনের টিকিট অনলাইনে সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায়ই হতাশ হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রার ১০ থেকে ১২ দিন আগেই আসন বুকিং দেখানো হচ্ছে। ফলে সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে নির্ধারিত মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি চক্র আগাম টিকিট সংগ্রহ করে পরে আসনভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে। এ চক্রের সঙ্গে বাস মালিক সমিতির একটি অংশ জড়িত থাকতে পারে বলেও কেউ কেউ সন্দেহ করছেন। তবে বাস মালিক সমিতি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

যশোরের বাহাদুরপুর এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম নিয়মিত ট্রেনে ঢাকায় যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে অনলাইনে টিকিট পাচ্ছেন না। টিকিট ছাড়ার পরপরই বুকিং দেখানো হয়। গত সপ্তাহে বাধ্য হয়ে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসের একটি নন-এসি টিকিট ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকায় কিনেছেন।

মিজানুর রহমান মুন নামের আরেক যাত্রী বলেন, তার ছেলে ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ছেলেকে দেখতে প্রায়ই ঢাকায় যেতে হয়। ট্রেনে যাতায়াত করতে পছন্দ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে টিকিট পাচ্ছেন না। ১২ দিন আগেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাকে।

বেনাপোল পৌরসভার কাগজপুকুর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, তিনি নিয়মিত বেনাপোল এক্সপ্রেসে ঢাকায় যাতায়াত করেন। মোবাইল ফোনে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতেন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে টিকিট পাচ্ছেন না। প্রতিবারই আসন বুকিং দেখানো হচ্ছে। ফলে তাঁকেও বাসে চলাচল করতে হচ্ছে।

যশোর শহরের বাসিন্দা শফিয়ার রহমান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাড়ি আসতে তিনি রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ব্যবহার করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে এই ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনলাইনে টিকিট না পেয়ে তার মতো অনেককে বাধ্য হয়ে বাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ট্রেনের প্রতি যাত্রীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

আসন ও ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন 
রেলওয়ের সূচি অনুযায়ী, রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সকাল পৌনে ১১টায় ছেড়ে পদ্মা সেতু দিয়ে বেলা ২টা ২৫ মিনিটে বেনাপোলে পৌঁছায়। বেনাপোল থেকে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকায় পৌঁছায়। অন্যদিকে, বেনাপোল এক্সপ্রেস বেনাপোল থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। ঢাকা থেকে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বেনাপোলে পৌঁছায় ট্রেনটি। পথে যশোরসহ নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে যাত্রী ওঠানামা করেন।

ট্রেন দুটির আসনভেদে ভাড়া আলাদা। যাত্রীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসে বেনাপোল থেকে ঢাকার শোভন চেয়ার শ্রেণির ভাড়া ৪৫৫ টাকা এবং স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৮৬৯ টাকা। বেনাপোল এক্সপ্রেসে বেনাপোল থেকে ঢাকার শোভন চেয়ার শ্রেণির ভাড়া ৬০০ টাকা ও স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ১ হাজার ১৫০ টাকা। যশোর থেকে ঢাকার শোভন চেয়ার শ্রেণির ভাড়া ৫৬০ টাকা এবং স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ১ হাজার ৭০ টাকা বলে জানানো হয়েছে। এসব ভাড়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অতিরিক্ত চার্জ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট টিকিটের তথ্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগ অস্বীকার বাস মালিক সমিতির
যশোর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান লিটন বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই। না বুঝে কেউ এমন মন্তব্য করছেন। তার দাবি, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে স্টেশনকেন্দ্রিক একটি চক্র জড়িত, যার সঙ্গে স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

যশোর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, কয়েক মাস ধরে ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। এ কারণে অনেকে টিকিট পাচ্ছেন না। যাত্রীরাও এ ধরনের অভিযোগ করছেন। তবে এর বেশি কিছু তাঁর জানা নেই।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, যশোর-বেনাপোল-ঢাকা রুটে ট্রেনের পর্যাপ্ত আসন রয়েছে এবং যাতায়াতের পরিবেশও মানসম্মত। টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে যাত্রীর চাপ বেড়েছে, এ কারণে অনলাইনে টিকিট পাওয়া কঠিন হচ্ছে। পূজার ছুটি শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কোনো সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্রে ট্রেনের যাত্রীরা ট্রেন ছেড়ে যাবেন না।

বগুড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
মিউচুয়াল ট্রান্সফার দাবি প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকদের, যা বললে…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় এবার গ্রেপ্তার বিএআরসির কর্…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, পিছিয়ে পড়ছে গলাচিপার চরাঞ্চলের …
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
বরিশালে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা পেলেন বাইসাইকেল ও পোশাক
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
ইবিতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে আহত নির্মাণশ্রমিক
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬