বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত ‘বিএসএস মহাকাশ ক্যাম্প ২০২৬ © সংগৃহীত
বরগুনায় চলছে দুই দিনব্যাপী দেশের সর্ববৃহৎ মহাকাশ ক্যাম্প ‘বিএসএস মহাকাশ ক্যাম্প ২০২৬’। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলা, মহাকাশবিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশের লক্ষ্যে বরগুনা সায়েন্স সোসাইটির (বিএসএস) আয়োজনে ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ বিজ্ঞানভিত্তিক আয়োজন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ মহাকাশ ক্যাম্পের আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দ্বিতীয় ও শেষ দিন। বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এ ক্যাম্পে মহাকাশবিজ্ঞান, রোবোটিকস, আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে নানা আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বিজ্ঞানপ্রেমীরা অংশ নিচ্ছেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এ মহাকাশ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বরগুনায় বিজ্ঞানচর্চার প্রসার ও বিকাশে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে বরগুনার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাম্পে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ, রোবট শো, ফোরডি (4D) মুভি, ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান প্রদর্শনী, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ নানা আকর্ষণীয় কার্যক্রম। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মহাকাশবিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী এ বিজ্ঞান উৎসবে অংশগ্রহণ করে। বিজ্ঞানকে পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি থেকে বের করে আনন্দময় ও ব্যবহারিক শিক্ষার অংশ করে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনা গড়ে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রদর্শিত হচ্ছে বিএসএসের নিজস্ব উদ্ভাবন ‘শূন্য’
এবারের মহাকাশ ক্যাম্পের অন্যতম আকর্ষণ বরগুনা সায়েন্স সোসাইটির নিজস্ব উদ্ভাবন ‘শূন্য (SHUNNO)’। পাশাপাশি বিভিন্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে। এসব প্রদর্শনীর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উপকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাস্তব সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
মহাকাশ ক্যাম্পে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব, ভবিগঞ্জ, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি, যশোরের জেসিবি সায়েন্স ক্লাব এবং ঢাকার রোবোডেমিসহ বিভিন্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক সংগঠন।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে তরুণদের আগ্রহ বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে এ আয়োজন।
বিএসএস মহাকাশ ক্যাম্প ২০২৬-এর আহ্বায়ক মেহেদী হাসান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে সহজলভ্য করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, শিক্ষার্থীরা যেন বিজ্ঞানকে ভয়ের বিষয় মনে না করে, বরং আনন্দের সঙ্গে বুঝতে ও শিখতে পারে। মহাকাশ ক্যাম্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে বিজ্ঞানচর্চা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আমরা চাই, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি অমূলক ভয় ও জড়তা দূর হোক, বিজ্ঞান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হোক এবং তারা নতুন কিছু জানার ও উদ্ভাবনের আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসুক।’
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও বিজ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে। বরগুনায় বিজ্ঞানচর্চার পরিবেশ সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়তে অনুপ্রাণিত করতে এ মহাকাশ ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।