নিহত স্কুলছাত্র © সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় শখ করে পাখিভ্যান চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে রবিউল (১৭) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকায় হাটবোয়ালিয়া-ভালাইপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত রবিউল ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেনের ছোট ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভাংবাড়ীয়া বাজারে সাপ্তাহিক হাট ছিল। এদিন রবিউল তার মায়ের জন্য স্থানীয় মুজাহিদের দোকান থেকে বড়া ভাজা কিনে বাড়িতে যায়। পরে শখের বশে মুজাহিদের পাখিভ্যানটি নিয়ে মহেশপুর মোড়ের দিকে রওনা হয়। পথে হাটবোয়ালিয়া-ভালাইপুর সড়কের ভাংবাড়ীয়া নতুন পাড়া এলাকায় পৌঁছালে সে ভ্যানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে ভ্যানটি সড়কের পাশে থাকা পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা খায়।
দুর্ঘটনায় রবিউল গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
রবিউলের বাবা ছানোয়ার হোসেন জানান, তিন ভাই-বোনের মধ্যে রবিউল ছিল সবার ছোট। পরিবারের সবাই তাকে খুব আদর করতেন। ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন।
রবিউলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ভাংবাড়ীয়া নতুন পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। যে বয়সে বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই তার এমন মৃত্যুতে শোকাহত স্বজন ও এলাকাবাসী।