চট্টগ্রামে খাল থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য অপসারণ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ PM
চট্টগ্রামে খাল থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম

চট্টগ্রামে খাল থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম © টিডিসি

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) দোহাজারী–কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিঃসৃত পরিত্যক্ত পানিমিশ্রিত ফার্নেস অয়েল স্লাজে দূষিত মইল্ল্যা খাল থেকে বর্জ্য অপসারণ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে স্থানীয় জনসাধারণ ও কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

এর আগে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিত্যক্ত পানিমিশ্রিত ফার্নেস অয়েল স্লাজ সরাসরি মইল্ল্যা খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাঙ্গু নদীতে মেশার ফলে পানি দূষিত হয়ে অনেক জলজ প্রাণী ও বিভিন্ন উদ্ভিদ হুমকির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তোলেন কৃষকরা। এর পরপরই পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দূষিত স্থানগুলো পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেন। এ ছাড়াও পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শনে আসেন। তারা উভয়ই বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মইল্ল্যা খাল থেকে বর্জ্য অপসারণ শুরু করেছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে মইল্ল্যা খাল ঘুরে দেখা যায়, একটি এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে খাল থেকে বর্জ্য অপসারণ করে প্রথমে পাড়ে তোলা হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে ড্রামের সাহায্যে সেগুলো সংগ্রহ করে বিদুৎকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩০ জন শ্রমিককে সেখানে কাজ করতে দেখা যায়। মূলত তারা কোদাল, ফোম, বেলচা ও বালতির সাহায্যে জমে থাকা তেলযুক্ত বর্জ্য পাড়ে তুলে নির্দিষ্ট ড্রামে সংরক্ষণ করছেন। ওই সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বর্জ্য অপসারণের কাজ তদারকি করতে দেখা যায়।

পরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় নিঃসৃত পরিত্যক্ত পানিমিশ্রিত ফার্নেস অয়েল স্লাজ একটি ড্রেনে মাধ্যমে তেলমিশ্রিত বর্জ্যপানি পরিশোধনাগারে পাঠানো হয়। এরপর সেখানে পানি থেকে স্লাজ আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয়। পরে আলাদা করা পানি তাদের নিজস্ব ড্রেনের মাধ্যমে মইল্ল্যা খালে ফেলা হয়। কিন্তু সম্প্রতি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ড্রেনটি বেশ কয়েকটি বালুর বস্তার সাহায্যে বন্ধ করে দিয়ে ওই পানি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানি এখন আর মইল্ল্যা খালে পৌঁছাতে পারছে না।

আরও দেখা যায়, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি ড্রেন রয়েছে। টানা বর্ষণ ও বন্যার সময় ওই ড্রেন দিয়ে পানির সঙ্গে স্লাজ প্রবাহিত হওয়ায় উভয় পাশে জমে থাকা ফার্নেস অয়েল স্লাজ পরিষ্কার করা হয়েছে। বালুর বস্তার সাহায্যে বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে ওই ড্রেনগুলো দিয়ে কোন ধরনের পানি কিংবা স্লাজ প্রবাহিত হচ্ছে না। এ ছাড়াও স্লাজ রাখার নির্দিষ্ট জায়গাগুলো প্রায় পরিপূর্ণ হওয়ায় সেখান থেকে কিছু স্লাজ সরিয়ে ড্রামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এমনকি ভারী বর্ষণের ফলে পানির সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে পড়া স্লাজগুলো সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬টি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৭ মেগাওয়াট। এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। এরপর সেখান থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন জেলায় বণ্টন করা হয়। সাম্প্রতিক বন্যা ও টানা বর্ষণের ফলে সংরক্ষণের স্থান থেকে কিছু পরিত্যক্ত পানিমিশ্রিত ফার্নেস অয়েল স্লাজ ড্রেনের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে খালের পানিতে মিশেছিল। গত কয়েকদিন ধরে এক্সক্যাভেটর ও শ্রমিকের সাহায্যে খাল থেকে সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই অপসারণের কাজ সম্পন্ন হবে। এ ছাড়াও অয়েলি ওয়েস্টওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পানিও যাতে খালে মিশতে না পারে সেজন্য বালুর বস্তা দিয়ে ড্রেনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দোহাজারী–কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, বর্তমানে আমাদের সংরক্ষণে প্রায় ৪ লাখ লিটার পরিত্যক্ত পানিমিশ্রিত ফার্নেস অয়েল স্লাজ রয়েছে। আমরা সেগুলো নিলামের কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করছি, আগামী ১ মাসের মধ্যে নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হবে এবং সর্বোচ্চ দরদাতা সেগুলো সরিয়ে নিবেন। এতে অতিবৃষ্টি কিংবা বন্যা হলেও এসব স্লাজ পানিতে মেশার ঝুঁকি থাকবে না।

কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসির মোড় এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এক্সক্যাভেটর ও শ্রমিকের সাহায্যে খালের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা কালচে ও তেলযুক্ত বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় জনসাধারণ ও কৃষকদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভবিষ্যতে যেন আবার খালে বর্জ্য না মিশে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য খাল থেকে অপসারণ করা অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনোভাবেই অপরিশোধিত বর্জ্য খাল, নদী বা কৃষিজমিতে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের একজন পরিদর্শক ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দূষণের স্থানগুলো পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের আমাদের কার্যালয়ে ডেকে দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের গৃহীত পদক্ষেপ দেখতে আমরা পুনরায় সেখানে যাব।

নওগাঁয় মিছিলের প্রস্তুতিকালে আওয়ামী-ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মী…
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পড়ালেখায় রুটিন ছিল না— রাত তিনটায় ঘুম ভাঙলেওপড়েছি, আবার ভর…
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বর্ণিল আয়োজন-উৎসবে প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর উদযাপন করল ইস্ট ওয়েস্…
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তৃতীয়বার ভাইভা বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম— ‘চেষ্টা আমার…
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যয় কমাতে ঢাকাকেন্দ্রিক এনসিএলের দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচ
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘অবহেলায়’ অন্তঃসত্ত্বা বিড়ালের মৃত্যু: ক্লিনিক মালিক ও দুই …
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬