টিডিসি সম্পাদিত © সংগৃহীত
সংস্কারের মাত্র চার মাসের মাথায় আবারও আগের বেহাল চেহারায় ফিরেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালালবাজার তেমুহনী-মীরগঞ্জ সড়ক। ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পরও সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ, বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজ ও এলজিইডির তদারকির ঘাটতিতেই জনদুর্ভোগ কমার বদলে আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, লক্ষ্মীপুর জেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দালালবাজার তেমুহনী থেকে মীরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কের ৩ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোনালী ট্রেডার্স, যার মালিক দুলাল হোসেন। এস্টিমেট অনুযায়ী সড়কে সৃষ্টি হওয়া গর্তগুলো ভরাট করে দেওয়ার কথা থাকলেও নিম্নমানের ইট দিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সংস্কার করেন। যার কারণে মাত্র ৪ মাসে অতিবাহিত না হতেই আবার সড়কটি দুর্ভোগে পরিণত হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, সড়কটি সংস্কারের ফলে যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তার ছিটেফোঁটাও নেই। বিভিন্ন স্থানে নামকাওয়াস্তে ইটের সলিং করা হয়েছে কিন্তু দুর্ভোগ কমেনি জনসাধারণের। সড়কে যাতায়াতকারীরা বলছেন, স্থানীয় মানুষও বিভিন্ন সময় সড়কটি সংস্কারের কাজ করেছেন। গত বছর যে কাজ হয়েছে তাতে যে লাউ সে কদু রয়ে গেছে।
বর্তমানে সড়কে পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ও কাদা জমে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে দালাল বাজার থেকে চৌধুরী বাজার এবং কাফিলাতলি থেকে মীরগঞ্জ বাজার অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। যানবাহন চলাচলে ঝুঁকিও বেড়েছে। ছোট-বড় গর্তে প্রতিনিয়ত সিএনজি, অটোরিকশা ও ট্রাক আটকে যায়। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রী ও স্থানীয়দের মাত্র ৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। অসুস্থ রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
সড়কটির দুই পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহ প্রায় ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার রয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলার পাশাপাশি চাঁদপুর ও নোয়াখালীর হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহাগ হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তা গত কয়েক বছর থেকে খুবই খারাপ অবস্থা। গত বছর ১৯ লাখ টাকা দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হয়। এখন রাস্তার অবস্থা আরোও খারাপ। সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।’
অটোচালক বাহার হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আমরা বিপদে আছি। গাড়ি ঘন ঘন নষ্ট হয়, রাস্তার কোন মেরামত নাই। গত বছর কাজ করেছিল, কি কাজ করেছে আল্লাহই জানে। কোন মতে ইট বসিয়ে চলে গেছে তাও পুরোপুরি কাজ করেনি। এগুলো কে দেখবে?’
নুরজাহান আক্তার বলেন, ‘রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে আমরা এখান দিয়ে চলাচল করি না। অন্য রাস্তা ঘুরে চলাচল করতে হয়। গাড়ি নিয়ে গেলে মাঝা (কোমর) ব্যথ্যা হয়ে যায়। চালকরা ভাড়াও বেশি নেয়। একজন মানুষ অসুস্থ হলে নিবে এরকম পরিস্থিতিও নেই।’
স্কুল শিক্ষার্থী মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে অনেক গর্ত, সাইকেল দিয়ে স্কুলে গেলে অল্প দিনে সাইকেল নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষাকালে এক এক গর্তে পানির অভাব নেই। আমাদের স্কুলে যেতে কষ্ট করতে হয়। তাই সরকার রাস্তাটি দূরত্ব সংস্কার করুক আমরা চাই।’
সিএনজিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কত কষ্ট এই রাস্তা দিয়ে চলতে হয়। তা যদি যারা রাস্তার কাজ করে প্রশাসনের তাদের দেখাতে পারতাম তাহলে জীবনেও দুর্নীতি করতো না। গতবছর কোনোমতে ইট দিছে কী কাজ করছে, এখন আমাদের আরও কষ্টের শেষ নেই। সরকার বাজেট দেয় আর এরা কাজ করে না ঠিকমতো।’
এলাকাবাসীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সোনালী ট্রেডার্সের মালিক মো. দুলাল হোসেনের সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লক্ষ্মীপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, ‘গত বছর সংস্কারের জন্য সামান্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটি সংস্কারের জন্য মেজারমেন্ট করা হয়েছে। দ্রুত এটি মন্ত্রণালয় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কাজে কোনো ঘাটতি থাকলে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’