প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ

২০২৫-এর পরিপত্রের আলোকে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগ চান প্রার্থীরা

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ PM , আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৭ PM
শূণ্য পদে নিয়োগ চান অপেক্ষমাণ তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা

শূণ্য পদে নিয়োগ চান অপেক্ষমাণ তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা © টিডিসি সম্পাদিত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ ও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষে দেড় হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন অপেক্ষমাণ তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা। এসব পদে নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষা না নিয়ে বিদ্যমান অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা। আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে আমাদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ না এলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ দাবি জানান প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর অপেক্ষমাণ তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা।

নিয়োগপ্রত্যাশীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য পদের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং অন্যান্য কারণে সুপারিশপ্রাপ্তদের দেড় হাজারের মতো পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগপ্রত্যাশীরা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা কর্তৃক ২৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে জারীকৃত পরিপত্র (স্মারক নং: ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০২০.২৪-২১৭)-এর অনুচ্ছেদ (গ)-তে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে​ নিয়োগের জন্য সুপারিশকৃত প্রার্থীদের মধ্যে কেউ চাকরিতে যোগদান না করলে বা চাকরিতে যোগদানের পর চাকরি হতে ইস্তফা প্রদান করলে শূন্য পদ পূরণের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ডিপিসির সভায় অপেক্ষমাণ তালিকা এবং উত্তীর্ণ প্রার্থীদের রেজাল্ট শিট উপস্থাপনপূর্বক শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী সুপারিশ করতে হবে। এছাড়াও পরিপত্রের অনুচ্ছেদ (খ) অনুযায়ী উক্ত অপেক্ষমাণ তালিকা সংরক্ষণের মেয়াদ হবে বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রথম নিয়োগের সুপারিশ প্রদানের তারিখ হতে ০১ (এক) বছর বা শূন্য পদ পূরণের জন্য পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ যেটি আগে ঘটে। ​অতএব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উক্ত পরিপত্রের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে বিদ্যমান সূন্য পদে নিয়োগের আইনি ও নীতিগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালার মতো ২০২৫ সালের নতুন বিধিতেও অপেক্ষমাণ তালিকা বা প্যানেল সংরক্ষণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। তবে এর আগে ২০২৩ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্যানেল সংরক্ষণসংক্রান্ত পরিপত্র ও নির্দেশনার আলোকে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে মোট তিনটি অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন। তৃতীয় ধাপে মামলাজনিত জটিলতায় অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি বলেও তাঁদের দাবি।

নিয়োগপ্রত্যাশীরা জানান, আমাদের দাবি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম। তারা জানিয়েছেন ২০২৫ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্যানেলের বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় ২০২৫ সালের প্রাথমিকে কোনো প্যানেল হবে না। অথচ ২০২৩ সালের প্রাথমিক নিয়োগ সার্কুলারেও প্যানেলের কথা উল্লেখ ছিল না, তবুও কর্তৃপক্ষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের আলোকে অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ করেছিল। তাছাড়া, দেশের প্রায় কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেই আলাদাভাবে অপেক্ষমান তালিকার কথা উল্লেখ থাকে না বরং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত পরিপত্র অনুসরণ করেই অপেক্ষমান তালিকা সংরক্ষণ ও প্রকাশ করা হয়।

তারা জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চূড়ান্ত সুপারিশের বাইরে থাকা অনেক প্রার্থী সামান্য নম্বরের ব্যবধানে মেধাতালিকায় স্থান পাননি। কারও কারও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমাও প্রায় শেষ পর্যায়ে। শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও তাদের নিয়োগের সুযোগ বিবেচনা না করা হলে এসব প্রার্থীর চাকরিতে প্রবেশের সম্ভাবনা কমে যাবে। এদিকে নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পরিবর্তে বিদ্যমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে শূন্য পদ পূরণ করা হলে সরকারের সময়, অর্থ ও প্রশাসনিক শ্রম সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে আগের নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা প্রার্থীদের যোগ্যতা কাজে লাগানোও সম্ভব হবে।

চার দফা দাবি
শূন্য পদ পূরণে চার দফা দাবি জানিয়েছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। 

১.নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষে বর্তমানে কতটি পদ শূন্য রয়েছে, তা জেলা ও পদভিত্তিক নির্ধারণ

২.যোগদান না করা ও যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের কারণে সৃষ্ট শূন্য পদের তথ্য যাচাই

৩. প্রযোজ্য পরিপত্র ও নিয়োগবিধি অনুসারে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ

৪.শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদ পূরণে দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

অপেক্ষমাণ তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে আমাদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অবস্থান ঘোষণা করতে হবে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে দাবির বিষয়টি পরিষ্কার করা না হলে, রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।

শনিবারে ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দেওয়ার দাবি
  • ২৪ অক্টোবর ২০২৬
টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মারা ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে চ…
  • ২৪ অক্টোবর ২০২৬
মেট্রোরেলে হঠাৎ অসুস্থ, হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু 
  • ২৪ অক্টোবর ২০২৬
হার্ট অ্যাটাকের ২–৫ বছর আগেও দেখা দিতে পারে যে লক্ষণ
  • ২৪ অক্টোবর ২০২৬
‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ লিখে এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস…
  • ২৪ অক্টোবর ২০২৬
শীত কবে থেকে শুরু, যা জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
  • ২৪ অক্টোবর ২০২৬