শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ © টিডিসি ফটো
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে আসা উৎকট ও দুর্গন্ধযুক্ত বাতাসে বিষিয়ে উঠেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার পরিবেশ। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম, পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মরত কর্মচারীরা। পচা দুর্গন্ধের চোটে ক্লাসরুমেই শিক্ষার্থীদের বমি করা ও অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গের এক্সহস্ট ফ্যান থেকে নির্গত দূষিত বাতাস সরাসরি রাস্তার অপর পাশে থাকা শেকৃবির একাডেমিক ভবন ও প্রধান ফটক এলাকায় প্রবেশ করছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহবুবুজ্জামান ভবনে থাকা তিনটি অনুষদের ক্লাস ও পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীরা পড়েন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলোতে ঢুকে পড়ায় সেখানে স্বাভাবিক পড়ালেখা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
দুর্ভোগের চিত্র ফুটে উঠেছে সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীদের পোশাকেও। প্রধান ফটকে মাস্ক পরে ডিউটি করা এক আনসার সদস্য জানান, পচা গন্ধে সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে ডিউটি করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।
মাহবুবুজ্জামান ভবনের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পচা গন্ধে ক্লাসে টেকা যায় না। দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে অনেকে ক্লাসের মধ্যেই বমি করে দিয়েছে। এই বিষাক্ত বাতাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ক্লাস করা আমাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের শামিল।”
দুর্গন্ধের প্রভাবে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন বলেন, “মর্গের তীব্র গন্ধের কারণে মাহবুবুজ্জামান ভবনের ক্লাসরুমে অবস্থান করা যাচ্ছে না। আমি নিজেও এই গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বমি করেছি। শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিয়ত অসুস্থ হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দ্রততম সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এর একটি কার্যকর সমাধান করা দরকার।”
বিষযটি নিয়ে জানতে চাইলে শেকৃবি রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুত সমস্যাটি নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছে।
মর্গের অবকাঠামোগত ও নকশাগত ভুল স্বীকার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) ডা. সোলায়মান কবীর বলেন, “স্থাপত্যগত দিক থেকে শুরুতেই বড় ভুল ছিল। মর্গ কখনোই একদম রাস্তার ওপর হতে পারে না। তাছাড়া অবকাঠামোতেও কিছু ত্রুটি আছে। তবে দুর্ভোগ কমাতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছি। দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে বিষাক্ত বাতাস পরিশোধনে বিশেষ কেমিক্যাল আনা হচ্ছে, যা ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ অনেক কমে আসবে।”
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেবল আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা স্থায়ী সমাধান চান। মর্গের বাতাস নির্গমন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর কিংবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে শেকৃবি ক্যাম্পাসকে বিষাক্ত মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।