বাকৃবির চার হলে সংঘর্ষ, তদন্ত শেষে শাস্তির মুখে ৪২ শিক্ষার্থী

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ AM
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় © ফাইল ছবি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনটি উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. মনজুর হোসেন। এদিকে সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে ৪২ শিক্ষার্থীকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের (শোকজ) জবাবও পর্যালোচনা করছে প্রশাসন। তদন্ত প্রতিবেদন ও শোকজের জবাব যাচাই-বাছাই শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. মনজুর হোসেন বলেন, ‘আমরা গত ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। মূলত কী ঘটনা ঘটেছিল এবং কারা এতে জড়িত ছিল, তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করে আমরা যা পেয়েছি, তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক যে সুপারিশ রয়েছে, সেটিই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী যা ব্যবস্থা হওয়ার, তা উপাচার্যের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, সংঘর্ষে জড়িত শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব প্রশাসনের কাছে এসেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শোকজের জবাব আমাদের দিয়েছে। আমরা সেগুলো বিশ্লেষণ করছি। এরপর দ্রুতই একটা অ্যাকশনে যাব। আমাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের যে অভিযোগ ছিল, সেই বিবৃতির ওপর ভিত্তি করেই শোকজ করা হয়েছিল। এখন শোকজের জবাবের সঙ্গে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা হবে। আমাদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে কতটুকু মিল আছে, সেটিও যাচাই করতে হবে। তদন্তে যা আসবে, সেই অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, হলের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। দোষীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। হলের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ন্যায্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

শাস্তির ধরন সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, ‘এর মধ্যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ থেকে শুরু করে একাডেমিক ও হলে থাকার ব্যাপারে বিদ্যমান নিয়ম বা ক্লজ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ও ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাকৃবির আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩ শিক্ষার্থী আহত হন। এর এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১ আগস্ট রাতে মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরদিন ২ আগস্ট রাতে চার হলের শিক্ষার্থীরা পৃথক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। 

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে ৯ আগস্ট চার হলের সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪২ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। প্রশাসন জানিয়েছিল, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ: বাকৃবি
এসএসসি-এইচএসসির সময় ৪০ লাখ বছর জাতির জীবন থেকে চলে যাচ্ছে
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
বছরের পর বছর ‘প্রভাষক’ থাকার অভিযোগ শিক্ষকদের, নোট নিতে বলল…
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ড. ইউনূসকে হেনস্তা চেষ্টায় ব্যবস্থা নিবে সরকার: জাহেদ উর রহ…
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
কর্মচারী নিয়োগ দেবে একশনএইড বাংলাদেশ
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
আফগানিস্তানের প্রতিরোধে আবুধাবি টেস্টে অস্বস্তিতে বাংলাদেশ
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলাম এগিয়ে এনে, কিন্তু …
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬