‘বিসর্জন’ দিয়ে বছর শুরু করবে ঢাবির থিয়েটার বিভাগ’

 'বিসর্জন'
'বিসর্জন'   © ছবি : সংগৃহীত

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রযোজনায় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালার রীতি ও আঙ্গিকের নিরীক্ষামূলক উপস্থাপনায় আজ সন্ধায় মঞ্চস্থ করবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিসর্জন' নাটক।

আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় নাটমণ্ডল মিলনায়তনে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথীদের উদ্দশ্যে প্রযোজনাটির প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। সর্বসাধারণের জন্য নাটকটি ২-৫ জানুয়ারি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬.৩০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমন্ডল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, সভাপতিত্ব করবেন থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আশিকুর রহমান লিয়ন।

প্রযোজনাটিকে 'মনুষ্যত্বের মহিমা অর্জনের নাট্যভাষা'- হিসবে আখ্যায়িত করে নির্দেশক তানভীর নাহিদ খান বলেন, 'ধর্মীয় আচারসর্বস্ব অন্ধপ্রথার সাথে মানবধর্মের বিরোধকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে নাটকটির আখ্যান। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মান্ধতা, ধর্ম-ব্যবসায়ীদের কপটতার উদাহরণ হিসেবে নাটকটি সহজাতভাবেই প্রাসঙ্গিক হয়ে দাড়ায়।'

নাটকটিকে যাত্রা আঙ্গিকে নির্মানের বিষয়ে নির্দেশক বলেন, 'প্রাতিষ্ঠানিক যায়গা থেকে বিভাগ বাংলা নাট্য তথা বিশ্বনাট্যের বিচিত্র রূপ-রীতি নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে অধ্যায়ন ও অনুশীলনের একটি বিশেষ সৃজনশীল ধারা নির্মান করেছে। এরই পরম্পরাতেই প্রচলিত যাত্রপালাভিনয়ের গতানুগতিক চর্চার বিপরীতে যাত্রাভিনয়ের রীতি ও আঙ্গিকের সাথে আধুনিক নাট্যভিনয়ের মিথস্ক্রিয়ায় নির্মান হয়েছে এই নিরীক্ষামূলক উপস্থাপন।'

প্রযোজনাটির সার্বিক সমন্বয়ক এবং বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান লিয়ন বলেন, 'বাংলাদেশের যাত্রা পরিবেশনা আমাদের নিজস্ব (দেশজ) আঙ্গিক। বিশ্ববদ্যালয়ের শিক্ষায়তনে দায়বদ্ধতার জায়গাকে বিবেচনা করে যাত্রাপালাকে আমরা নিরীক্ষাধর্মী কার্যযক্রমের আওতায় এনে উপস্থাপনাটি তৈরি করেছি। সেক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী নাটক 'বিসর্জন'কে এই প্রথম বাংলাদেশে যাত্রা আঙ্গিকে পরিবেশন করার জন্য আমরা নির্ধারণ করেছি। ধর্মীয় গোড়ামির উর্ধ্বে গিয়ে মানবতার জয় প্রকাশ পাচ্ছে এই যাত্রাপালায়। তাছাড়া শিক্ষায়তনে নাট্যচর্চার গুরুদায়িত্ব হচ্ছে নাট্যপরিবেশনাকে তত্বীয় এবং ব্যবহারিকভাবে নিরীক্ষা করা। যাত্রাপালার প্রচলিত যে নাট্যঢং সেগুলোকে মান্য করেই নতুনভাবে নিরীক্ষা করে পরীক্ষামূলকভাবে রবীন্দ্রনাথের এই নাটকটিকে আমরা উপস্থাপন করছি।'

বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর নাহিদ খানের নির্দেশনা ও সংগীত পরিকল্পনায় নাটকে অভিনয় করবেন তৃতীয় বর্ষ ষষ্ঠ সেমিস্টারের দীপম সাহা, ফারজাদ ইফতেখার, মো. আবতাহী সাদমান ফাহিম, হোসাইন জীবন, মো. রাফায়াতুল্লাহ, মো. তানভীর আহম্মেদ, মোসা. নাসরিন সুলতানা অনু, নিকিতা আযম নীলিমা হোসেন, ওবায়দুর রহমান সোহান, প্রণব রঞ্জন বালা, শাহবাজ ইশতিয়াক পূরণ, সুজানা জাহেদী, তনুশ্রী কারকুন, সায়র নিয়োগী। প্রযোজনাটি ষষ্ঠ সেমিস্টারের ৩৫৪ এবং ৩৫৫ নাম্বার কোর্সের অন্তর্ভুক্ত।

প্রযোজনায় দ্বিতীয় বর্ষ চতুর্থ সেমিস্টারের মুজাহিদুল ইসলাম রিফাত, রিফাত করবী, এস. এ. তানভীর, জাদিদ ইমতিয়াজ আহমেদ, প্রাণ কৃষ্ণ বনিক, ইফতি শাহরিয়ার রাইয়ান এবং প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফৌজিয়া আফরিন তিলু, মারিয়া সুলতানা, মুনিরা মাহজাবিন সহ আরও অনেকে অভিনয় করবেন।

পাশাপাশি নাটকের বাদক দলে থাকবেন প্রণব রঞ্জন বালা, ইফতি শাহরিয়ার রাইয়ান, মনোহর চন্দ্র দাস, শাহাবুদ্দিন, আলাউদ্দিন, কমল সরকার, ভানু ভৌমিক, কেশব পাল-সহ আরও অনেকে।

নাটকের গয়েন দলে থাকবেন তাহিয়া তাসনিম, দেবলীনা চন্দ দৈবী, জয়া কস্তা, সালমান নূর, তরিকুল সরদার, আজরিনা শারমিন, অনন্যা দে, বর্ণালী ঘোষ বর্ণ, শান্তা আক্তার, শেখ রাহাতুল ইসলাম, তাহসিন নুর মিত্রিতা, টুম্পা রানী দাস, উম্মে হানী।

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রহমত আলীর ভাবনা ও তত্ত্বাবধানে প্রযোজনাটিতে মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা করবেন ড.আহমেদুল কবির, পোশাক ও রূপসজ্জা কাজী তামান্না হক সিগমা, দেহবিন্যাস ও চলন অমিত চৌধুরী, দ্রব্য পরিকল্পনা আহসান খান, পোস্টার ডিজাইন ও দ্রব্য নির্মানে সহযোগীতা করবেন দেবাশীষ কুমার দে প্রশান্ত, অভিনয় উদ্দীপক উত্তম কুমার ভট্টাচার্য এবং প্রযোজনাটির সার্বিক সমন্বয় করেছে বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান লিয়ন।

নাটকে আলোক প্রক্ষেপণ করবেন শাহাবুদ্দিন মিঞা, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. জাহিদ ইসলাম।


সর্বশেষ সংবাদ