ঢাবিতে শীতের ছুটি শুরু: পিঠা খাওয়ার এইতো সময়...

শীতের ছুটিতে বাড়ি ফেরা নিয়ে ব্যস্ততা ঢাবি শিক্ষার্থীদের
শীতের ছুটিতে বাড়ি ফেরা নিয়ে ব্যস্ততা ঢাবি শিক্ষার্থীদের  © প্রতীকী ছবি

আজ পৌষ মাসের তিন তারিখ। বাংলা পৌষ-মাঘ দুই মাস মিলে শীতকাল হলেও শীতের আমেজ শুরু হয়েছে চলতি ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই। রাজধানী ঢাকায় শীত কম হলেও বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যেই তীব্র শীত পড়া শুরু হয়েছে। এই তীব্র শীতে মাটির চুলার পাশে বসে গরম গরম পিঠা খাওয়া, তীব্র শীতের সকালে খেজুর গাছ থেকে সংগ্রহ করা টাটকা খেজুর রস এবং শীতের টাটকা সবজি খাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে শীত কাল যেন একটা উৎসব বয়ে আনে।

শীতকে উপভোগ করতে ইতোমধ্যেই ক্যাম্পাস ছেড়ে শেকড়ের টানে পাড়ি জমাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলে অবস্থানরত অনেক শিক্ষার্থী। চাকরিপ্রার্থী কিংবা যারা বিসিএসে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর যাদের টিউশন অথবা ক্লাস বা পরীক্ষা আছে তারা বাদে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ইতোমধ্যে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। শীতকালীন ছুটি পেয়ে মহানন্দে বাড়ির পথে যাত্রা করছেন তারা।

হল পাড়ায় এখন আর আগের মত ভিড় দেখা যাচ্ছে না। রাত তিনটা বেজে গেলেও যেখানে চায়ের আড্ডায় মেতে থাকে শিক্ষার্থীরা সেই হলপাড়া এখন সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হতেই নীরব হয়ে যায়। দেখা যায় না কোনো চা-নাসতার ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের। হলের দোকানগুলোতেও বেচাকেনা কম বলে বাড়িতে পাড়ি জমিয়েছেন অনেক দোকানদার। বন্ধ আছে হলের ডাইনিং বা মেসগুলোও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শীতকালীন ছুটি শুরু হয়েছে গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে এবং ছুটি থাকবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ধারণা করা হচ্ছে আগামী ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পরেই একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে চালু হতে পারে। ছুটি চারদিন আগে থেকে শুরু হলেও এখনও চলছে কিছু কিছু বিভাগের ক্লাস বা পরীক্ষা।

এছাড়া কিছু বিভাগের অনলাইন ক্লাস হচ্ছে বলেও জানা যায়। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাঝখানে হরতাল অবরোধের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কয়েকটি ক্লাস এবং পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিলো। সেই গ্যাপ পূরণ করার জন্যই এই ছুটির মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ ইয়াছিন জানান, ছুটি শুরু হয়ে গেলেও আমাদের পরীক্ষা চলছেই। পরীক্ষা দ্রুত শেষ হয়ে গেলে বাড়ি যেতে পারবো।

বিসিএস প্রস্তুতির জন্য হলে থেকে যাওয়া এক শিক্ষার্থী জানান, বিসিএস কোচিং চলছে পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে পড়ার অভ্যাস হয়ে যাওয়ায় বাড়ি যাচ্ছি না। বাড়ির সবাইকে অনেক মিস করি কিন্তু কিছু করার নেই। তবে ছুটির শেষ দিকে দুই একদিনের জন্য যেতে পারি। 

এদিকে টিউশন বাতিল হয়ে যাওয়ার ভয়ে এখনও ক্যাম্পাস ছেড়ে যাননি একাধিক শিক্ষার্থী। এমনই কবি জসিমউদদীন হলের শিক্ষার্থী আশিক খান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, টিউশন আছে সামনে ছাত্রের পরীক্ষা হওয়ায় যেতে পারছি না পাশাপাশি বিভাগ আবার অ্যাসাইনমেন্ট সাবমিশনের ডেট ও দিতে পারে সব মিলিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। তবে বাড়ির সবার কথা মনে পড়ছে। বাড়ি থেকে বাবা-মা কল দিয়ে প্রতিদিনই যাওয়ার কথা বলে।

ছুটিতে বাড়ি যাওয়া শিক্ষার্থী শাকিল শেখ জানান, বাড়িতে এসে খুব ভালো লাগছে। দীর্ঘদিন পর বাড়িতে সবার সাথে সময় কাটাচ্ছি। তবে ক্যাম্পাস, হল এবং বন্ধুদেরকেও মিস করছি বিশেষ করে আমরা ২০ থেকে ২৫ জন একসাথে গণরুমে থাকতাম এখন একাই থাকি তাই বন্ধুদের কথা মনে পড়ে।

এদিকে ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ চলাচল সীমিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ কর্তৃপক্ষ। পরিবহণ ম্যানেজার-২ কামরুল হাসান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ছুটি চললেও কিছু কিছু বিভাগে পরীক্ষা এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে কিছু কিছু শিক্ষার্থীরা আসেন ফলে তাদের সুবিধার্থে কোনো কোনো রুটে আপ-ডাউন একটা বাস, কোনো কোনো রুটে দুইটা। এভাবে প্রতিটা রুটেই বাস চললেও সীমিত করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আলোচনা করে একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু শিক্ষার্থীদের পরিবহণ চলাচল সীমিত করা হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস চলাচল আগের মতই আছে।


সর্বশেষ সংবাদ