আসিয়ার ধর্ষকের ফাঁসি নিশ্চিতের দাবি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের
- টিডিসি রিপোর্ট
- প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৫, ০৭:৩৩ PM , আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৫, ০৭:৩৩ PM

মাগুরার আসিয়া ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং সারাদেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনটি ধর্ষকের ফাঁসি ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার (৮ মার্চ) বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
মানববন্ধনে ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ‘দেশে ধর্ষণ ও নারী শ্লীলতাহানীর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরাধীদের আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ থাকায় ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। তাই অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "মাগুরার আসিয়ার ধর্ষককে প্রকাশ্যে ফাঁসির রায় কার্যকর করে ধর্ষকদের জন্য কঠোর বার্তা দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধের সাহস না পায়।’
মানববন্ধনে বক্তারা ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলো হলো- নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহনসহ সর্বত্র নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। নারীদের জন্য মানসম্মত ও নারীবান্ধব শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপত্তা বিধান করা। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রেখে নারীর স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করা। সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করা। মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং কাউন্সেলিং সুবিধা প্রদান করা।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দীক, সংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, মুঈন আহমেদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রচার সম্পাদক মনসুরুল হক শান্ত, অর্থ সম্পাদক ইলিয়াস আলী, সাহিত্য সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য ইকরামুল করিম, রেজাউল করিমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মাগুরায় আসিয়া নামের এক ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হন, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।