বিদেশি শিক্ষার্থী প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে

সরকরি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১০ বছরের বিদেশি শিক্ষার্থীদের তুলমামূলক চিত্র
সরকরি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১০ বছরের বিদেশি শিক্ষার্থীদের তুলমামূলক চিত্র  © ৪৭তম বার্ষিক প্রতিবেদন

উচ্চশিক্ষায় আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হওয়ায় এক সময় দেশের স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ছিল খুবই নগন্য। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রচার-প্রচারণার অভাব, স্কলারশিপ না থাকা প্রভৃতি এর জন্য দায়ী ছিল। তবে বর্তমানে সেই চিত্র উল্টো।

এক বছরের ব্যবধানে এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে, একই সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুটা বেড়েছে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) প্রকাশিত ‘৪৭তম বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২০’-এ উঠে এসেছে এমন চিত্র।

বৈশ্বিক মাহামারি নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পুরো বছর দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে অনলাইনে এসব প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম সচল ছিল।

ইউজিসি বলছে, করোনার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব থাকা সত্ত্বেও এ বছরে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক প্রসার। বর্তমানে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে উচ্চশিক্ষার কোর্স কারিকুলাম, সিলেবাস ইত্যাদি দেখে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হচ্ছে এবং অনলাইনের মাধ্যমেও শিক্ষা নিচ্ছে।

ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের (৪টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বাতীত) মধ্যে ২৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৬৭ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছরে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮৫ জন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৮২ জন।

১০ বছর আগে ২০১১ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ২১০ জন। এরপর ২০১২ সালে ৫২৫ জন, ২০১৩ সালে ৩২৬ জন, ২০১৪ সালে ৪৩২ জন, ২০১৫ সালে ৫৯৩ জন, ২০১৬ সালে ৩৫৫ জন, ২০১৭ সালে ৪৬১, ২০১৮ সালে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮০৪ জন।

ইউজিসির ৪৭তম বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৫০ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছরে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন বৃদ্ধি পেয়েছে।২০১৯ সালে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৬৭ জন। এ বছর ৯৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২টিতে বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত ছিল।

উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে বিশ্বের ২৬টি দেশের শিক্ষার্থীরা ২০২০ সালে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিল। এসব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, চীন, জাপান, ইউএসএ, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, গ্যাম্বিয়া, মরক্কো, সাউথ কোরিয়া, কানাডা, মৌরিতানিয়া, তানজেনিয়া, অস্ট্রিয়া, রুয়ান্ডা, জিবুতি, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, সাউথ সুদান ও বাহারাইন।

বার্ষিক প্রতিবেদনে ইউজিসি বলছে, প্রতিবছরই বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ যেমন আমেরিকা, জাপান, চীন, কানাডা ইত্যাদি থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে এসেছে। যে কারণে বহির্বিশ্বে একদিকে যেমন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে শিক্ষার গুণগতমান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও উন্নীত করা সম্ভব বলে কমিশন মনে করে।


সর্বশেষ সংবাদ